ইউরোপকে আবার তেল ও গ্যাস দিতে রাজি মস্কো
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,মস্কো:-ইউরোপ একসময় রাশিয়ার জ্বালানির ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল ছিল । বিগত কয়েক দশক ধরে ইউরোপ জুড়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হতো রাশিয়া থেকে । ২০২২ সালে মস্কোর সাথে ইউক্রেনের পুরনো মাত্রায় আগ্রাসনের পর এই সম্পর্ক ভেঙে যায় । এবং পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ইউরোপ অন্য জায়গা থেকে জ্বালানি আমদানি করার কথা ভাবে । তবে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউরোপেও জ্বালানির সংকট দেখা দিতে পারে সেই আবহে রাশিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলি যদি তাদের মত পরিবর্তন করে তাহলে তাদের জন্য আবার দরজা খুলে যেতে পারে রাশিয়ান জ্বালানির।
বিগত সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন মস্কো ইউরোপীয় বাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত আছে । তিনি আরো জাগিয়েছেন যেকোনো পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি অংশীদারিত্বের জন্য ইউরোপীয় সরকার এবং সংস্থাগুলির কাছ থেকে স্পষ্ট রাজনৈতিক মত প্রয়োজন। সরকারি একটি বৈঠকে তিনি বলেন ” আমরা ইউরোপীয়দের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, কিন্তু তারা যে আমাদের সাহায্য নেয়া জন্য তৈরি আছে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দরকার” । প্রেসিডেন্ট পুতিন আরব জানিয়েছেন রাশিয়া কখনোই ইউরোপ কে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করেনি । যদি ইউরোপীয় সংস্থা ইউরোপীয় ক্রেতারা নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্বিশেষে আমাদের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল সহযোগিতার নিশ্চয়তা দেয় তাহলে সহযোগিতা করা হবে।
এক সময় রাশিয়া বছরের পর বছর ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলির অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি সরবরাহকারী ছিল । ইউক্রেন রাশিয়া সংঘাতের পর থেকে ইউনিয়নের দেশগুলি রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাসের আমদানি ধীরে ধীরে কমাতে থাকে । ইউরোপীয় বাজারে বেশিরভাগ অংশ হারানোর পর রাশিয়া তার সেললো গ্যাসের বড় অংশ ভারত, তুরস্ক , চীনসহ এশিয়ার দেশগুলিতে রপ্তানি করা শুরু করেছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও পুতিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশ গুলিতে গ্যাস ও তেল সরবরাহ করতে প্রস্তুত ।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের ওপর হামলার পর পাল্টা পশ্চিম এশিয়ার আমেরিকা ও ইজরায়েলের বন্ধু দেশগুলিতে ইরানের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়। যুদ্ধের ফলে ইরান বন্ধ করে দেয় হরমুজ প্রণালী । যার কারণে গোটা বিশ্বেই জ্বালানির বড়সড়ো সংকটের আশঙ্কা দেখা গিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের প্রতি দামও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে । সেই আবহে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিতে তেল ও জ্বালানি সরবরাহের বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
