গাড়ি শিল্পে বড় বিনিয়োগ, ভারতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা- তিনদিন ভারত সফরে আসছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বুধবার তিনি নয়াদিল্লিতে আসেন তিনি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী পদে বসার পরেই এটাই প্রথমবার তাঁর এই ভারত সফর। জানা গিয়েছে, হরিয়ানায় প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে যৌথভাবে তিনি মারুতির গাড়ি কারখানা উদ্বোধন করবেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলির মধ্যে ভারতের মধ্যে অটোমোবাইল খাতে এটি অন্যতম বৃহত্তম বিনিয়োগ। ভারত ও জাপানের মধ্যে এই দৃঢ় সম্পর্ক ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও এটি একটি মাইলফলক হতে চলেছে। ১৬ তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে ঘিরে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ভারতের অটোমোবাইল ও উন্নত উৎপাদন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন শিল্প সহযোগিতার পথ তৈরি করা।
ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অটোমোবাইল বাজার। এই বাজারকে কেন্দ্র করেই জাপানের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা ও অটো পার্টস সংস্থাগুলি নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি), হাইব্রিড প্রযুক্তি, ব্যাটারি উৎপাদন এবং অত্যাধুনিক অটো কম্পোনেন্ট তৈরির ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় উৎপাদন বাড়ানো, সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) আরও শক্তিশালী করা এবং ভারতকে বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, তামিলনাড়ু, কর্নাটক এবং মহারাষ্ট্রে নতুন শিল্প প্রকল্পে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে।
অটোমোবাইল শিল্পের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, সবুজ জ্বালানি, হাইড্রোজেন প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর ফলে আগামী কয়েক বছরে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা অভ্যন্তরীণ বাজার, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং সরকারের শিল্পবান্ধব নীতির কারণে জাপানি সংস্থাগুলি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী। অন্যদিকে, চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার কৌশলের অংশ হিসেবেও ভারতকে গুরুত্ব দিচ্ছে জাপান।
এই সফরকে ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। অটোমোবাইল শিল্পে নতুন বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে শুধু উৎপাদনই বাড়বে না, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দেশের শিল্পক্ষেত্রের সামগ্রিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
