সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে তুলোধোনা, ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ বলে কটাক্ষ ভারতের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা- এবার পাকিস্তানকে ফের তুলোধোনা করল ভারত। পাকিস্তানকে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ কটাক্ষ রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুপমা সিংহের। শুক্রবার ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের কাজে মদত দেওয়ার অভিযোগে এইভাবে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। অনুপমা বলেন, ওই দেশটি এখন নিজের তৈরি দানবের (সন্ত্রাসবাদী) কামড় খেয়ে নিজেরাই চমকে উঠবে। পাকিস্তানের প্রতিনিধি জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রসঙ্গ তোলেন। সেই সময় এক প্রতিক্রিয়ায় অনুপনা সিংহ বলেন, ইসলামাবাদ ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসে মদত দিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। এখানে একমাত্র অমীমাংসিত বিষয়টি হল, ভারতের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারি।’’
সাম্প্রতিক এক কূটনৈতিক আলোচনায় ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিবাদ ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে প্রশ্রয় দেওয়ার নীতির ফলেই আজ পাকিস্তান নিজেই নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়েছে। ভারতের বক্তব্য, যে শক্তিগুলিকে একসময় কৌশলগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল, তারাই এখন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ শব্দবন্ধটি মূলত এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে নিজেই তৈরি বা লালন করা শক্তি পরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ভারতের মতে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উদ্বেগ এই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
এই মন্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা আবারও সামনে চলে এসেছে। যদিও পাকিস্তান অতীতে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে, তবুও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সব মিলিয়ে, ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের তিক্ততা আরও স্পষ্ট হয়েছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
