আজকের দিনেবাংলার আয়না

​গ্যাসের জোগানে টান: দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে ভোগ বিতরণে কোপ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, দিঘা: আরব দুনিয়ার অস্থিরতার আঁচ এবার এসে পৌঁছাল বাঙালির প্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দিঘায়। রান্নার গ্যাসের তীব্র সঙ্কটের জেরে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তদের ভোগ বিতরণে বড়সড় কাটছাঁট করা হলো। যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৩০০০ ভক্তকে ভোগ খাওয়ানো হতো, জোগানে টান পড়ায় বর্তমানে তা কমিয়ে ৭০০ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

​মন্দির ট্রাস্টি বোর্ড জানিয়েছে, গ্যাসের আকাল না মেটা পর্যন্ত এই কড়াকড়ি জারি থাকবে। তবে ভক্তদের জন্য প্রসাদ তৈরিতে টান পড়লেও মহাপ্রভুর নিত্য ভোগ নিবেদনে কোনো খামতি রাখা হচ্ছে না। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রাধারমণ দাস জানান, মজুত থাকা গ্যাস দিয়েই এখন কাজ চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বিকল্প হিসেবে কাঠের উনুনে রান্না করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য অন্নভোগের পরিমাণ কমানো হলেও ধর্মীয় নিয়ম মেনে প্রভুর সেবার কাজ সচল রাখাই এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।

​গ্যাস সঙ্কটের এই প্রভাব কেবল মন্দিরের হেঁশেলে সীমাবদ্ধ নেই। পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা, শংকরপুর, মন্দারমণি এবং তাজপুরের হোটেল ব্যবসায়ীরা চরম উদ্বেগে রয়েছেন। ​পাশাপাশি হলদিয়ার শিল্পতালুকও এই পরিস্থিতির জেরে প্রমাদ গুনছে। গ্যাস রিফিলিং প্ল্যান্টগুলিতে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

​আতঙ্ক ছড়ানো রুখতে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলিকে সচেতনতা প্রচারের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,  তেল বিপণন সংস্থাগুলির মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ঘরোয়া গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো খবর বা পুরনো ভিডিও শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের শোধনাগারগুলিকে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে এবং ঘরোয়া ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। হোটেল-রেস্তোরাঁর মতো বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে কিছু নিয়ন্ত্রণ থাকলেও হাসপাতাল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি পরিষেবাকে এই বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *