আজকের দিনেসুস্থ থাকুন

ক্লান্তি আর অবসাদ কাটবে ম্যাজিকের মতো! রোজ সকালে ‘সূর্য নমস্কার’-এর ট্রিকস বদলে দেবে জীবন

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:-  কাজের ক্লান্তি, আত্মবিশ্বাসের অভাব কিংবা কঠোর পরিশ্রমের পরেও কি সঠিক সম্মান ও সাফল্য পাচ্ছেন না? জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, এই ধরণের সমস্যাগুলির সাথে কোষ্ঠীতে দুর্বল ‘সূর্য’-এর একটি বড় সংযোগ রয়েছে। গ্রহরাজ সূর্য মানুষের শক্তি, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস এবং খ্যাতির প্রতীক। তাই প্রাচীনকাল থেকেই শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং সূর্যের শুভ প্রভাব বাড়াতে সূর্য উপাসনা ও নির্দিষ্ট কিছু যোগাভ্যাসের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এই সমস্ত সমস্যার সমাধানে এবং শরীর-মনকে চাঙ্গা রাখতে সবচেয়ে কার্যকরী ও জনপ্রিয় অনুশীলন হলো ‘সূর্য নমস্কার’। ১২টি শক্তিশালী যোগাসনের সমন্বয়ে গঠিত এই অভ্যাস প্রতিদিন সকালে করলে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে বাধ্য।

সূর্য নমস্কার কী?

সংস্কৃত শব্দ ‘সূর্য’ এবং ‘নমস্কার’ (অভিবাদন)—এই দুটির মিলনে তৈরি হয়েছে সূর্য নমস্কার। এটি মূলত একটি সামগ্রিক বা হোলিস্টিক অনুশীলন, যা আমাদের শরীর, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং মনের মধ্যে এক অপূর্ব সামঞ্জস্য তৈরি করে। সকালে খালি পেটে এই যোগাভ্যাস করা সবচেয়ে উপকারী। মনে করা হয়, নিয়মিত সূর্য নমস্কার করলে সূর্য দেবতার আশীর্বাদ লাভ হয় এবং জীবন ইতিবাচকতায় ভরে ওঠে।

সূর্য নমস্কারের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ (যোগাসন):

সূর্য নমস্কার করার সময় একটি নির্দিষ্ট ক্রমে নিচের ১২টি আসন পর পর করতে হয়:

১. প্রণাম আসন: সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে করজোড়ে বুক বরাবর হাত রেখে সূর্যকে প্রণাম করার ভঙ্গি।

২. হস্ত উত্তানাসন : দুই হাত ওপরের দিকে তুলে শরীরকে সামান্য পিছনের দিকে বাঁকানো।

৩. পদহস্তাসন : কোমর থেকে সামনের দিকে ঝুঁকে হাত দুটি পায়ের পাশে মাটির দিকে নামানো।

৪. অশ্ব সঞ্চালনাসন : একটি পা পেছনে নিয়ে এবং সামনের হাঁটু ভাঁজ করে ঘাড় ওপরের দিকে তোলা।

৫. দণ্ডাসন : দুই পা-ই পেছনে নিয়ে পুরো শরীরকে মাটির সমান্তরালে সোজা রাখা (প্ল্যাঙ্ক পোজ)।

৬. অষ্টাঙ্গ নমস্কার: হাঁটু, বুক এবং চিবুক মাটিতে ঠেকিয়ে শরীরকে অভিবাদনের ভঙ্গিতে আনা।

৭. ভুজঙ্গাসন : কোমর থেকে শরীরের ওপরের অংশ সাপের মতো তুলে পেছনের দিকে বাঁকানো (কোবরা পোজ)।

৮. পর্বত আসন : কোমর ও নিতম্ব ওপরের দিকে তুলে পুরো শরীরকে একটি উল্টো ‘V’ আকৃতিতে আনা।

৯. অশ্ব সঞ্চালনাসন : এবার অন্য পা-টি সামনে এনে চতুর্থ ধাপের ভঙ্গিটির পুনরাবৃত্তি করা।

১০. পদহস্তাসন : পুনরায় সামনের দিকে ঝুঁকে হাত দুটি পায়ের কাছে নিয়ে আসা।

১১. হস্ত উত্তানাসন : শরীর সোজা করে ওপরে তোলা এবং হাত দুটি আবার পিছনের দিকে বাঁকানো।

১২. প্রণাম আসন : অবশেষে, হাত দুটিকে পুনরায় শুরুর মতো বুকের কাছে এনে প্রণাম অবস্থানে ফিরে আসা।

সূর্য নমস্কারের ৫টি প্রধান উপকারিতা:

  • আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচকতা বৃদ্ধি: প্রতিদিন এই অভ্যাস করলে মানসিক শক্তি ও মনোযোগ বাড়ে, যা নেতিবাচক চিন্তা দূর করে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে।

  • শারীরিক শক্তি ও সতেজতা: এটি শরীরের প্রতিটি পেশীকে টানটান ও শক্তিশালী করে, ফলে সারাদিন শরীরে অলসতা বা ক্লান্তি আসে না।

  • ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ফিটনেস: এটি একটি চমৎকার ফুল-বডি ওয়ার্কআউট। দ্রুত ক্যালোরি পুড়িয়ে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতে এবং ফিটনেস বজায় রাখতে এর জুড়ি নেই।

  • হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের কার্যকারিতা: নিয়মিত এই অনুশীলনের ফলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয় এবং ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

  • মানসিক চাপ ও উদ্বেগ মুক্তি: এর নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়া মনকে শান্ত করে এবং দৈনন্দিন মানসিক চাপ ও অবসাদ থেকে দ্রুত মুক্তি দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *