আজকের দিনেবাংলার আয়না

বালাসনের গ্রাসে দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, শিলিগুড়ি: বর্ষার শুরুতেই উত্তরবঙ্গে প্রকৃতির রুদ্ররূপ। রাতভর টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা পাহাড় ও সমতলের জনজীবন। গত ২৪ ঘণ্টায় পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই অতি বর্ষণের জেরে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথাও জাতীয় সড়কে ভয়াবহ ধস নেমে, আবার কোথাও নদীগর্ভে আস্ত সেতু ভেসে গিয়ে শিলিগুড়ি-দার্জিলিং এবং শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক যোগাযোগ এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ ব্যাহত।

তলিয়ে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু, বিচ্ছিন্ন মিরিক

বৃহস্পতিবার থেকেই ফুঁসছিল পাহাড়ি নদী বালাসন। মধ্যরাতে জলের তোড় আচমকা বেড়ে যাওয়ায় দুধিয়ার হিউম পাইপ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী সেতুটি সম্পূর্ণভাবে জলের তোড়ে তলিয়ে যায়। ফলে এই মুহূর্তে মিরিকের সঙ্গে দুধিয়া এবং শিলিগুড়ির সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবর মাসে বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দুধিয়ার মূল সেতুটি। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তড়িঘড়ি হিউম পাইপের ওপর এই অস্থায়ী সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে খরস্রোতা পাহাড়ি নদীতে ওই ঠুনকো সেতু কত দিন টিকবে, তা নিয়ে প্রথম থেকেই বড়সড় প্রশ্ন ছিল। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বর্ষার প্রথম ধাক্কাতেই বালাসনের গর্ভে তলিয়ে গেল সেই অস্থায়ী সেতু। এর জেরে রাত থেকেই দুধিয়ার বালাসন তীরবর্তী এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন।

৫২ কোটির স্থায়ী সেতু ২০২৭-এর ফেব্রুয়ারির মধ্যে: পূর্তমন্ত্রী

দুধিয়ার সেতু বিপর্যয় নিয়ে ইতিমধ্যে কড়া নজরদারি শুরু করেছে রাজ্যের পূর্ত দফতর। রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অজয় কুমার পোদ্দার জানিয়েছেন, দফতরের একটি বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারিং দল ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে। নদীর জলস্তর স্বাভাবিক হলেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা পুনরুদ্ধারের কাজ অবিলম্বে শুরু করা হবে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি দ্রুততম সময়ে পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় আপদকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

একই সাথে মন্ত্রী একটি বড় ঘোষণা করে জানান যে, প্রায় ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন স্থায়ী দুধিয়া সেতুর নির্মাণকাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই এই স্থায়ী সেতু সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে নতুন সরকার।

“নদীর জল কমলেই দ্রুত রাস্তা পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি ৫২ কোটি টাকার স্থায়ী সেতুর কাজও দ্রুতগতিতে চলছে, যা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।” — অজয় কুমার পোদ্দার, পূর্তমন্ত্রী।

বন্ধ ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ও টয়ট্রেন পরিষেবা

পাহাড়ে ধসের জেরে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে যোগাযোগ সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। এই ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরেই মূলত শিলিগুড়ি ও দার্জিলিংয়ের মধ্যে হেরিটেজ টয়ট্রেন চলাচল করে। রাস্তা বিপর্যস্ত থাকায় এবং লাইনের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আপাতত টয়ট্রেন পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধস সরিয়ে এবং রাস্তা মেরামত করে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *