আজকের দিনেগ্রীন রুমরাজনীতি

“আমাকে ইউজ করেননি?” মমতাকে রচনার নজিরবিহীন আক্রমণ,

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:-  ক্ষমতাচ্যুত হতেই অলআউট পর্ব শুরু তৃণমূলের। দলের অন্দরের আদি-নব্য দ্বন্দ্ব এবং ক্ষোভের আগুন এবার সীমা ছাড়িয়ে দাবানলের রূপ নিয়েছে। এতদিন ধরে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের নিশানায় নাম না করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থাকলেও, এবার সরাসরি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নজিরবিহীন ভাষায় তোপ দাগলেন খোদ তারকা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত কড়া সুরে তিনি বলেন, ‘‘দলের মুখ অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু হুগলি জেতার জন্য আপনার সেলিব্রিটি দরকার ছিল। নাহলে কেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়? কেন যে কোনও কাউকে তুলে নিয়ে গিয়ে হুগলিতে দাঁড় করাননি? আমি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই আজ হুগলি তৃণমূলের হয়েছে। আপনি আমাকে ইউজ করেননি?”

হুগলির তারকা সাংসদের স্পষ্ট দাবি, দলের হাওয়া বা প্রতীকে নয়, বরং নিজের ব্যক্তিগত ক্যারিশ্মাতেই তিনি সাংসদ হয়েছেন। তবে এই চরম ডামাডোলের মধ্যেও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে এখনই তিনি সাংসদ পদ ছাড়ছেন না।

২৬-এর ভরাডুবির পর বিপর্যস্ত সংসদীয় দল:

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে যে ফাটল ধরেছিল, তা এখন সংগঠিত রূপ নিয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ২৯ জন সাংসদ জয়ী হয়েছিলেন। এর মধ্যে বসিরহাটের সাংসদ হাজি নুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর সংখ্যাটি দাঁড়ায় ২৮-এ। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২১ জনই এখন ‘বিক্ষুব্ধ’ শিবিরের খাতায় নাম লিখিয়েছেন।

এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে ২১ সাংসদ, নেতৃত্বে কাকলি-শতাব্দী:

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশ থেকে সরে এসে এই ২১ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ এনডিএ (NDA)-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে তাঁরা এনসিপিআই-এর সঙ্গে জোট বেঁধেছেন। এই নব্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং বীরভূমের শতাব্দী রায়। প্রায় সপ্তাহ দুয়েক আগে এই গোষ্ঠী দিল্লিতে গিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবিদাওয়া পেশ করে এসেছে।

জানা গেছে, কাকলি-শতাব্দীদের শিবিরে নাম লেখালেও সেই সময় ব্যক্তিগত কারণে বিদেশে থাকায় দিল্লি যেতে পারেননি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দেশে ফিরেই তিনি আলাদাভাবে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ফলে ছাব্বিশের ভোটের পর তৃণমূলের সংসদীয় দল যে কার্যত দুই টুকরো হয়ে গেল, তা এখন জলের মতো পরিষ্কার।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *