ডেথ জোনের মরণফাঁদ: এভারেস্ট অভিযানের নিষ্ঠুর বাস্তবতা জানেন…?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক :- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,৮৪৯ মিটার উচ্চতায় মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া জয়ের স্বপ্ন যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনই ভয়ংকর। কিন্তু চূড়ার ঠিক আগের এই দুর্গম এলাকাটি—যা চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পর্বতারোহণের ভাষায় পরিচিত ‘ডেথ জোন’ নামে—তা আক্ষরিক অর্থেই মানুষের সহ্যের শেষ সীমানা। ৮,০০০ মিটারের ওপরের এই মৃত্যুপুরীতে আজ পর্যন্ত ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
মৃত্যুর ফাঁদ যখন ‘ডেথ জোন’
এভারেস্টের ৮,০০০ মিটারের পর থেকেই শুরু হয় এই মৃত্যু অঞ্চল। এখানে বাতাসের অক্সিজেনের মাত্রা সমতলের তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। এই বিরল উচ্চতায় পৌঁছানো মাত্রই মানবদেহ কার্যত বিকল হতে শুরু করে:
-
হৃৎপিণ্ডের ধড়ফড়ানি বেড়ে যায় এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়।
-
পেশির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন পর্বতারোহীরা, ধীর হয়ে পড়ে শারীরিক গতিবিধি।
-
হজমশক্তি স্তব্ধ হয়ে যায় এবং বিচার-বিবেচনা করার ক্ষমতা লোপ পায়।
হাইপোক্সিয়া: নিঃশব্দ ঘাতক
এই উচ্চতায় পর্বতারোহীদের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হলো ‘হাইপোক্সিয়া’, যেখানে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে অক্সিজেন পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া এই উচ্চতায় কাউকে ছেড়ে দিলে মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যে জ্ঞান হারানো এবং ৬ মিনিটের মধ্যে মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে।
তীব্র হাইপোক্সিয়ার ফলে পর্বতারোহীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন, এমনকি সুরক্ষার জন্য দড়ি আটকানোর মতো অতি সাধারণ বিষয়ও বিস্মৃত হন। অভিজ্ঞ আরোহীরাও জানিয়েছেন, চূড়ার কাছাকাছি পৌঁছে তাঁদের চিন্তাশক্তি স্থবির হয়ে পড়ে এবং শরীর চূড়ান্ত দুর্বলতায় ডুবে যায়।
২০২৬: মরশুমে বিষাদের ছায়া
চলতি ২০২৬ সালের অভিযানে এভারেস্টের এই ভয়ঙ্কর রূপ আবারও সামনে এসেছে। এবারের অভিযানে অন্তত পাঁচজন পর্বতারোহীর মৃত্যুর খবর মিলেছে, যার মধ্যে দু’জন ভারতীয়। সফলভাবে চূড়া জয়ের পর নামার পথে এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো বারবার মনে করিয়ে দেয়—মাত্রাতিরিক্ত ভিড়, চরম ক্লান্তি এবং ভুল সিদ্ধান্ত এই পর্বতকে পৃথিবীর অন্যতম প্রাণঘাতী স্থানে পরিণত করেছে।
এভারেস্ট জয় অনেকের কাছে স্বপ্নের হাতছানি হলেও, ৮,০০০ মিটারের ওপারে প্রতিটি পদক্ষেপ যেন মৃত্যুকে চ্যালেঞ্জ জানানো। কৃত্রিম অক্সিজেন সেখানে বিলাসিতা নয়, বরং বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
