৪ বছর পর আধারের ‘ম্যাজিকে’ ঘর ফিরল মূক-বধির কিশোর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,পুরুলিয়া: ট্রেনের জানলা দিয়ে দেখা অচেনা দৃশ্য আর শব্দহীন এক পৃথিবী— এই দুইয়ের মাঝে পড়ে ৪ বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিল ১৭ বছরের কিশোর জয়ন্ত কুমার। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সময় পর, অবশেষে আধার কার্ডের আঙুলের ছাপের সূত্র ধরে নিজের পরিবারকে ফিরে পেল সেই মূক-বধির কিশোর। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির হাত ধরে বাবার কাছে ফিরল সে।
মামার বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ
পুরুলিয়ার বলরামপুরের গোয়ালডাঙ গ্রামের বাসিন্দা জয়ন্ত কুমার। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে বাঁকুড়ায় মামার বাড়ি যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সে। কিন্তু ট্রেন বদলে ভুল পথে চলে যাওয়ায় সে আর গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। বলরামপুর থেকে ট্রেন ধরে যাওয়ার পথেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। ওই বছরেরই ২০ এপ্রিল খাতড়া থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে এবং পরে বীরভূমের রামপুরহাট হোমে তার থাকার ব্যবস্থা করা হয়।
দীর্ঘ লড়াই
রামপুরহাট হোমের সুপার তীর্থঙ্কর ঘোষ জানান, জয়ন্ত কথা বলতে বা শুনতে না পারায় তার বাড়ির ঠিকানা জানা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কর্তৃপক্ষ আধার ডেটাবেসের মাধ্যমে তার পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করলেও বারবার ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিস-ম্যাচ’ হওয়ায় কাজ এগোচ্ছিল না। তবুও হাল ছাড়েননি হোম কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীকালে সল্টলেকের আধার কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেখানে বিশেষ পদ্ধতিতে পুনরায় ফিঙ্গার আইডেন্টিফিকেশন করা হলে তা ‘সাকসেসফুল’ হয় এবং জয়ন্তর আধার কার্ড থেকে তার আসল ঠিকানা খুঁজে পায় কর্তৃপক্ষ।
আবেগের মিলন
ঠিকানা পাওয়ার পরেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পুরুলিয়ায় তার বাবা রাখহরি কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ৪ বছর পর মোবাইল স্ক্রিনে ছেলেকে দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা। এদিন পুরুলিয়া জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির কার্যালয়ে যখন জয়ন্ত তার বাবাকে সামনে দেখে, দুজনেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। উপস্থিত আধিকারিকদের চোখেও তখন জল। ছেলের ফিরে আসায় আপ্লুত রাখহরি কুমার বলেন, “খুব ভালো লাগছে ছেলেকে ফিরে পেয়ে। যে কোথায় কোথায় ওকে খুঁজেছি, তা বলে বোঝাতে পারব না।” পুরুলিয়া শিশু কল্যাণ কমিটির চেয়ারপার্সন দীপঙ্কর সরকার বলেন, “মূক-বধির বা বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আধার কার্ড থাকা অত্যন্ত জরুরি। জয়ন্তর ক্ষেত্রে আধার ছিল বলেই আজ সে পরিবার পেল। এই ধরনের মানুষদের পরিচয়পত্র করিয়ে রাখার জন্য আমি সব পরিবারকে অনুরোধ জানাচ্ছি।” পুরুলিয়া ও বীরভূম— দুই জেলার প্রশাসনের তৎপরতায় দীর্ঘ ৪ বছর পর একটি পরিবার পূর্ণতা পেল। আজ রাতে বলরামপুরের গোয়ালডাঙ গ্রামে জয়ন্ত ফিরছে এক নতুন জীবনের আশ্বাসে।
