আজকের দিনেতিলোত্তমা

স্কুল-মন্দিরের ১ কিমির মধ্যে বন্ধ, এবার কি তবে মদের দোকানেও ‘বুলডোজার’?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: রাজ্যের ক্ষমতায় এসেই যত্রতত্র মদের দোকানের অবস্থান নিয়ে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। এবার থেকে স্কুল, কলেজসহ যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মন্দিরের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো নতুন মদের দোকান করা যাবে না। একটি প্রশাসনিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ বার্তা দিয়েছেন, “এতদিন শাসকের আইন ছিল, এবার থেকে আইনের শাসন হবে।”

দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ধর্মীয় স্থানের কাছাকাছি মদের দোকান থাকা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছিল। সুরাপ্রেমীদের ভিড়ের জেরে সাধারণ মানুষের পথচলতি সমস্যা এবং এলাকার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার ভূরি ভূরি অভিযোগ আসছিল। অনেক ক্ষেত্রে লাইসেন্সবিহীন বেআইনি মদের দোকান চালানোর অভিযোগও উঠেছিল। রাজ্যের ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার সেই সমস্ত বিশৃঙ্খলায় রাশ টানতে উদ্যোগী হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

কড়া নীতি ও নতুন লাইসেন্স বিধি

প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নতুন মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে দূরত্বের নিয়ম কড়াভাবে মেনে চলা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মন্দিরের ১ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনোভাবেই নতুন লাইসেন্স মঞ্জুর করবে না সরকার। এই জনমুখী সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন একযোগে সাধুবাদ জানিয়েছে।

পুরোনো দোকানগুলির ভাগ্য কী?

নতুন এই নির্দেশিকার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, স্কুল, কলেজ বা মন্দিরের কাছাকাছি ইতিমধ্যেই যে সমস্ত মদের দোকান রয়েছে, সেগুলির কী হবে?

  • উচ্ছেদ কি সম্ভব? বিদ্যমান দোকানগুলি সরিয়ে দেওয়া বা বন্ধ করা হবে কি না, তা নিয়ে সরকারের তরফে এখনও চূড়ান্ত বা স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।

  • বুলডোজার আতঙ্ক: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার অপারেশন’ শুরু হয়েছে। ফলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, দূরত্বের নিয়ম লঙ্ঘনকারী এবং লাইসেন্সহীন বেআইনি মদের দোকানগুলির বিরুদ্ধেও প্রশাসন শীঘ্রই একই রকম কঠোর উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা: “আমরা বলেছি, স্কুল-কলেজ, মন্দিরের এক কিলোমিটারের মধ্যে মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এ সরকার অন্যভাবে চলবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *