ক্ষমতা হারানোই কি কাল? প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ইডির ম্যারাথন তল্লাশি,
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, তিরুবনন্তপুরম: কেরলে ক্ষমতার অলিন্দ থেকে বামেদের বিদায়ের পরেই নজিরবিহীন রাজনৈতিক নাটক। গদি হারানোর ঠিক কয়েকদিনের মাথায় এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট -এর স্ক্যানারে স্বয়ং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়ন। বুধবার সাতসকালে আর্থিক তছরুপ মামলার তদন্তে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তিরুবনন্তপুরমের ভাড়া বাড়ি-সহ কেরলের মোট ১২টি জায়গায় একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি শুরু করল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
শুধু বিজয়নই নন, ইডির এই অভিযানের তালিকায় রয়েছেন কেরলের প্রাক্তন পর্যটনমন্ত্রী তথা বিজয়নের জামাতা মহম্মদ রিয়াজও। কোঝিকোড়ে তাঁর বাসভবনেও তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। কেরল হাইকোর্ট রক্ষাকবচের আবেদন খারিজ করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই জোড়া অ্যাকশনে চরম অস্বস্তিতে বাম শিবির।
নেপথ্যে ১.৭২ কোটির ‘মেগা স্ক্যাম’: কী এই মামলা?
এই গোটা তল্লাশির নেপথ্যে রয়েছে ২০১৮-১৯ সালের একটি বহুল চর্চিত দুর্নীতি মামলা, যা ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের মুখে বিজয়ন সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল।
-
অভিযোগ কী? অভিযোগ ওঠে, ‘কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড’ নামের একটি বেসরকারি খনিজ উৎপাদনকারী সংস্থা পিনারাই বিজয়নের মেয়ে টি বীণার আইটি সংস্থা ‘এক্সালজিক সলিউশনস’-কে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ১.৭২ কোটি টাকা পাইয়ে দিয়েছিল।
-
পরিষেবা ছাড়াই টাকা: তদন্তে প্রকাশ পায়, বিজয়ন-কন্যার তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাটি ওই বেসরকারি কোম্পানিকে কোনো রকম ব্যবসায়িক বা প্রযুক্তিগত পরিষেবাই প্রদান করেনি। অর্থাৎ, প্রভাব খাটিয়ে এই বিপুল টাকা হাতবদল করা হয়েছিল বলে দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার।
আদালতের গ্রিন সিগন্যাল ও ইডির হানা
এই মামলায় আর্থিক তছরুপের দিকটি খতিয়ে দেখতে ২০২৪ সালে মামলা দায়ের করে ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ চেয়ে কেরল হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল অভিযুক্ত বেসরকারি সংস্থা ‘সিএমআরএল’।
কিন্তু মঙ্গলবারই হাইকোর্ট সংস্থার সেই আবেদন এবং পরবর্তী দু’ সপ্তাহের জন্য আইনি সুরক্ষার আর্জি সাফ খারিজ করে দেয়। আদালতের সেই পর্যবেক্ষণের পরদিনই, অর্থাৎ বুধবার সকাল থেকে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়ে ইডি আধিকারিকরা।
বদলাচ্ছে কেরল, কোমর বাঁধছে নয়া কংগ্রেস সরকার
কেরলে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সরকার গঠন করেই অ্যাকশন মোডে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন। একদিকে যখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দুয়ারে ইডি, অন্যদিকে তখন রাজ্য প্রশাসনের অন্দরেও শুরু হয়েছে শুদ্ধিকরণ।
রাজ্য সরকারের বড় পদক্ষেপ:
পিনারাই বিজয়নের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৫ জন পুলিশ আধিকারিককে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিজয়ন জমানার দুর্নীতি মামলার তদন্তকে বিপথে চালিত করার অভিযোগে রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তা এম আর অজিত কুমারের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে নব্য কংগ্রেস সরকার।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে রাজপথে নতুন সরকারের প্রশাসনিক কোপ, আর অন্যদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির আইনি ফাঁস— দুইয়ে মিলে ক্ষমতাচ্যুত পিনারাই বিজয়ন ও কেরলের বাম শিবিরের ওপর চাপ যে কয়েক গুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।
