‘জনতার দরবার’-এ শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অভিযোগ ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ‘জনতার দরবার’-এ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বিস্ফোরক অভিযোগ সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের নেতৃত্বে চলা চক্রের জন্য গত ১২-১৩ বছর ধরে কাজ থেকে বঞ্চিত ছিলেন তিনি।
আজ ‘জনতার দরবার’-এর তৃতীয় দিনে সল্টলেকের বিজেপি দফতরে হাজির হন সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। পৌনে ১০টা নাগাদ বিজেপি দফতরে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সকাল থেকেই নিজেদের অভাব-অভিযোগ জানাতে ভিড় জমান বহু মানুষ।ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ইন্দ্রনীল সেন এতদিন যে কাজ করে এসেছেন সেই কাটমানি টাকা থেকে নেক্সাস তৈরি করা। এটি যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছনো যায় তাই আসা। যারা যোগ্য তাদের ব্যান না করে কাজ দেওয়া উচিত।’এর আগে তৃণমূল সরকার ও প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে লবিবাজি ও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন ঋদ্ধি। তাঁর দাবি, ‘আমি মোটামুটি শেষ ১২-১৩ বছর ধরে ব্যান ছিলাম। ইন্দ্রনীল সেনের আন্ডারে যে চক্রটা চলত। বিভিন্ন মঞ্চে যারা পাঁচালি, কীর্তন গাইছেন, তাঁদের অনেকেই সরকারি চাকরি পেয়েছেন। সমস্তই আমাদের গায়ক মন্ত্রী নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাঁর একটা লবি, সিন্ডিকেট, নেক্সাস চলত।’ঋদ্ধির আরও অভিযোগ, ‘৬-৭টা করে অনুষ্ঠান পেতেন এক একজন। হাই পেমেন্ট পেতেন। সেটা ব্যাঙ্কে পড়ত। সেখান থেকে টাকাটা রিটার্ন হয়ে আবার চলে আসত কাটমানির মতো করে। আপনি আমার ব্যাঙ্কে রাখলেন ১০ হাজার টাকা, বলছে, তুমি কিন্তু আমাকে ২ হাজার টাকা ব্যাক করে দিও।’শুধু প্রাক্তন মন্ত্রী নয়, সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ‘সরকারি আধিকারিকরা ইনভলভড। আমি আমার রাজ্যে সরকারি কাজ পাই না। আমার নাম দেখলে সরকারি হলও পাই না। রবীন্দ্রসদন কি ইন্দ্রনীল সেনের বাবা এসে তৈরি করে গেছিলেন? পরের দিকে নবান্ন থেকে বলে দেওয়া হত, কে হল পাবে, কে পাবে না।’এ বিষয়ে ইন্দ্রনীল সেন এর পক্ষ কোনো উত্তর এখনো অবধি পাওয়া যায়নি।
‘জনতার দরবার’-এ শিল্পীর এই বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কী পদক্ষেপ করেন, সেদিকেই তাকিয়ে শিল্পীমহল।
