আজকের দিনেভারত

বাংলার রেকর্ড ও শান্তিপূর্ণ ভোটদানে উচ্ছ্বসিত প্রধান বিচারপতি

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লিঃ বঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচন শেষ হতে না হতেই বাংলার গণতন্ত্রের জয়গান শোনা গেল খোদ দেশের শীর্ষ আদালতে। কোনও রক্তপাত বা বড়সড় অশান্তি ছাড়াই যেভাবে ৯২ শতাংশের বেশি মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, তাতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। শুক্রবার একটি মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি জানান, একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে বাংলার এই বিপুল ভোটদানের হার দেখে তিনি অত্যন্ত খুশি।

‘গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হলো’

এদিন শুনানি শুরু হতেই বাংলার প্রথম দফার ভোট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন: “যখন মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, তখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়। ভোটাররা যদি নিজেদের অধিকারের শক্তি বুঝতে পারেন, তবে তাঁরা আর হিংসায় জড়ান না।” বেঞ্চের অপর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও বাংলার এই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এবারের ভোটে কোনও বড় হিংসার ঘটনা ঘটেনি, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।

৯২ শতাংশ ভোট ঐতিহাসিক: সলিসিটর জেনারেল

নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও বাংলার এই ভোটচিত্র দেখে মুগ্ধ। তিনি বলেন, “৯২ শতাংশ ভোট পড়া ঐতিহাসিক ঘটনা।” এই সাফল্যের নেপথ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। অন্যদিকে, রাজ্যের আইনজীবী তথা প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, এবার পরিযায়ী শ্রমিকরাও বিপুল সংখ্যায় গ্রামে ফিরে নিজেদের ভোট দিয়েছেন।

আদালতে হাসির রোল ও নৈশভোজের আমন্ত্রণ

গম্ভীর আইনি সওয়াল-জবাবের মাঝেই এদিন হালকা মেজাজে ধরা দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে আগামী ৪ মে (ফলপ্রকাশের দিন) বাংলায় নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান তিনি। এই প্রস্তাব শুনে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী রসিকতা করে বলেন, “উনি যদি আগে কলকাতায় আসতেন, তবে সেই আপ্যায়নের দায়িত্ব আমারই থাকত।” আইনি জগতের এই দুই মেরুর মানুষের মধ্যে এমন সৌজন্য বিনিময় আদালত কক্ষে উপস্থিত সকলকে হাসিয়ে দেয়।

কেন এই উচ্ছ্বাস?

প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ৯২.৭১ শতাংশ ভোটদান ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। সাধারণত বাংলা মানেই ভোট-পরবর্তী হিংসা বা ছাপ্পা ভোটের যে অভিযোগ ওঠে, এবার তা কার্যত অনুপস্থিত ছিল। সলিসিটর জেনারেলের মতে, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

৪ মে ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, বাংলার সাধারণ মানুষ যেভাবে বুথমুখী হয়েছেন, তাকেই গণতন্ত্রের আসল জয় হিসেবে দেখছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *