১০ জনের আমেরিকার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় বসনিয়ার, শেষ ১৬-য় ট্রাম্পের দেশ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, লস অ্যাঞ্জেলেস:- মেক্সিকো ও কানাডার পর তৃতীয় আয়োজক দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল আমেরিকা। লস অ্যাঞ্জেলেসে ১০ জন হয়ে যাওয়ার পরেও বসনিয়া ও হারজেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারাল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। গোল করেও লাল কার্ড দেখে লজ্জার নজির গড়লেন আমেরিকার ফোলারিন বালোগুন।
প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা বসনিয়া রক্ষণ সামলে কাউন্টারে যাওয়ার ছক কষেছিল। সেটা বুঝেই শুরু থেকে আক্রমণে ঝাঁপান আমেরিকার কোচ মৌরিসিয়ো পোচেত্তিনো। ম্যাচের শুরুতেই গোল পেতে পারত আমেরিকা। মালিক টিলমানের ক্রস থেকে বল জালে জড়ান বালোগুন। কিন্তু অল্পের জন্য অফসাইডে বাতিল হয় গোল।
বসনিয়া মরিয়া হয়ে রক্ষণ করলেও প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ভুল করে বসে। ৪৫ মিনিটে রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় ফিনিশ করেন বালোগুন। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর তৃতীয় গোল। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামের ৬৬ হাজার দর্শকের মধ্যে ৬০ হাজার আমেরিকার সমর্থকের গর্জনে কাঁপছিল গ্যালারি।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬৪ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর মতো ঘটনা ঘটান বালোগুনই। বাজে ট্যাক্ল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তিনি। বিশ্বকাপের নকআউটে একই ম্যাচে গোল ও লাল কার্ডের নজির এর আগে শুধু ছিল জিনেদিন জিদানের। ২০০৬ ফাইনালে মাতারাজ্জিকে ঢুঁসো মেরে লাল কার্ড দেখেছিলেন জিদান।
১০ জনের আমেরিকাকে পেয়ে চেপে ধরে বসনিয়া। একের পর এক আক্রমণ তুলে আনে। কিন্তু গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হয় তারা। তখনই মাঝমাঠে লোক বাড়ান পোচেত্তিনো। পাল্টা আক্রমণের ছক কাজে লাগে। আমেরিকার আরও একটি গোল অফসাইডে বাতিল হলেও ৮২ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে ব্যবধান বাড়ান টিলমান।
০-২ পিছিয়ে পড়ার পরই হার মেনে নেয় বসনিয়া। শেষ দিকে তাদের আক্রমণে ধার ছিল না। আমেরিকার গোলরক্ষককে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা।
২০০২ সালের পর আবার বিশ্বকাপের নকআউটে গেল আমেরিকা। মেক্সিকো, কানাডার পর তৃতীয় আয়োজক দেশ হিসেবে শেষ ষোলোয় উঠল তারা। তবে শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে বড় ধাক্কা খাবে দল। লাল কার্ডের জন্য সেই ম্যাচে নেই দলের সেরা অস্ত্র বালোগুন। তাঁকে ছাড়াই রোমেলু লুকাকু, কেভিন দ্য ব্রুইনদের আটকানোর ছক কষতে হবে পোচেত্তিনোকে। অন্যদিকে প্রথমবার নকআউটে উঠেও লড়াই করেও খালি হাতে ফিরতে হল বসনিয়াকে।
