সাভারে এনসিপির সভায় বোমা বিস্ফোরণ, জখম ৪!”আমাদের খুনের ছক ছিল!” বিস্ফোরক চিফ হুইপ নাহিদ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ঘিরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। এরই মধ্যে সোমবার রাতে ঢাকার সাভারে শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)-র সমাবেশে আচমকা ভয়াবহ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ৪ জন এনসিপি কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবিতে সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত সাভার মডেল থানার সামনে বিক্ষোভ ও ঢাকায় ব্যাপক প্রতিবাদ মিছিল করেছেন দলটির সমর্থকেরা।
সোমবার রাত পৌনে ১০টা নাগাদ সাভারের তারাপুর ইদগাহ মাঠ এলাকায় এনসিপির এই পূর্বপরিকল্পিত জনসভাটি চলছিল। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন-সহ একাধিক দাবিতে আয়োজিত এই সভায় প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি-র আহ্বায়ক তথা জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
-
বিস্ফোরণের মুহূর্ত: সভা চলাকালীন মঞ্চে বক্তব্য রাখছিলেন এনসিপি-র জেলা আহ্বায়ক নাবিদা তাসনিদ। ঠিক সেই সময়ই আচমকা মঞ্চের সামনের দিকে ভিড়ের মধ্যে বিকট শব্দে বোমা/ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
-
হুড়োহুড়ি ও আতঙ্ক: বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই প্রবল ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীরা প্রাণভয়ে সভাস্থল ছেড়ে পালাতে শুরু করেন এবং চারদিকে তীব্র হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।
-
পরিকল্পিত লোডশেডিং: এনসিপি নেতৃত্বের অভিযোগ, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ঠেকাতে এবং হামলার পথ সহজ করতে ঠিক তার আগেই সভাস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪ কর্মী
বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই এনসিপির চার জন কর্মী-সমর্থক গুরুতর আহত হন। তাঁদের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন।
“খুন করার পরিকল্পনা ছিল প্রশাসনের”, পাল্টা হুঁশিয়ারি নাহিদের
এই বর্বরোচিত হামলার পর রাতেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “আজকের এই বোমা বিস্ফোরণ স্পষ্টভাবে প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে। সমাবেশ চলাকালে কেন হুট করে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হলো, প্রশাসনকে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। আমাদের খুন করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে আমরা মনে করি।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, ভয়ভীতি, বোমাবাজি বা ককটেল—কোনো কিছু দিয়েই এই ‘জুলাই জাগরণ’ থামানো যাবে না। সব উপেক্ষা করেই এনসিপির পদযাত্রা ও কর্মসূচি দেশজুড়ে সচল থাকবে।
সাভার থানার সামনে গভীর রাতে বিক্ষোভ, পরবর্তী কর্মসূচি টাঙ্গাইলে
হামলার ঘটনার পর রাতেই উত্তাল হয়ে ওঠে সাভার। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে গভীর রাতে সাভারে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা। এরপর তাঁরা সাভার মডেল থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
তবে এই হামলার পরেও পিছু হটতে নারাজ এনসিপি নেতৃত্ব। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের সখীপুরে ‘জুলাই পদযাত্রা’ আয়োজিত হবে এবং সেখানে উদ্ভূত পরিস্থিতি উপেক্ষা করেই সশরীরে উপস্থিত থাকবেন নাহিদ ইসলাম।
সোশ্যাল মিডিয়া ট্যাগ:
#BangladeshNews#DhakaSavar#NCP#NahidIslam#JulyMovement#SavarExplosion#QIndiaBangla
