বিধানসভায় আজ ‘শুভেন্দু-পর্ব’: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম পদার্পণ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে আজ, বুধবার। শনিবার ব্রিগেডের ঐতিহাসিক সভামঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আজ প্রথমবার বিধানসভায় পা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা চত্বরে আজ তাঁকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। গত পাঁচ বছর বিরোধী দলনেতার ভূমিকায় থাকলেও, আজ থেকে তাঁর পরিচয় মুখ্যমন্ত্রী।
আজকের কর্মসূচির সূচি
মুখ্যমন্ত্রীর আজকের দিনটি ঠাসা কর্মসূচিতে ভরা। বিধানসভা সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী:
শপথগ্রহণ: বেলা ১১টায় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের কাছে বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে এই শপথ নেন।
শ্রদ্ধাজ্ঞাপন: শপথ নেওয়ার পর তিনি সংবিধান প্রণেতা ডঃ বি.আর. আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান।
বিশেষ পুজো: এরপর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ঘরে একটি বিশেষ পুজোয় অংশ ।
বিধায়কদের শপথগ্রহণের নির্ঘণ্ট
প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় জানিয়েছেন, আজ এবং আগামীকাল—এই দুই দিন ধরে নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথবাক্য পাঠ করানো হবে।
দিন পর্যায় জেলাসমূহ
বুধবার প্রথমার্ধ মুখ্যমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রীগণ, উত্তরবঙ্গ ও মুর্শিদাবাদের বিধায়কবৃন্দ।
দ্বিতীয়ার্ধ নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিধায়কবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার প্রথমার্ধ কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের বিধায়কবৃন্দ।
দ্বিতীয়ার্ধ পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমের বিধায়কবৃন্দ।
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বর্তমানে ২৯০ জন বিধায়কের শপথ নেওয়ার কথা। শুভেন্দু অধিকারী এবং হুমায়ুন কবীর দুটি করে আসনে জয়ী হয়েছেন এবং তাপস রায় আগেই শপথ নিয়েছেন।
স্পিকার নির্বাচন নিয়ে জল্পনা
মঙ্গলবার বিকেলে রাজভবনে রাজ্যপাল আর.এন. রবির কাছে প্রোটেম স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছেন তাপস রায়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ এবং নিশীথ প্রামাণিকের মতো হেভিওয়েট নেতারা।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে যে, তাপস রায়ই কি পরবর্তী স্পিকার হতে চলেছেন? সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, প্রোটেম স্পিকারের পূর্ণাঙ্গ স্পিকার হতে কোনো আইনি বাধা নেই। তবে রীতি মেনে স্পিকার নির্বাচনের আগে তাঁকে প্রোটেম স্পিকার পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে, যেমনটা ২০০৪ সালে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় করেছিলেন।
