‘যাদবপুরে অরাজকতা চলছে’ বনাম ‘মেধাকে অপমান করবেন না’! বারুইপুরে মোদি-মমতা বাগযুদ্ধ তুঙ্গে
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বারুইপুর: দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে প্রচারের পারদ এখন সপ্তমে। শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের টংতলা মাঠে জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই মঞ্চ থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। যার পালটা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ‘বাংলাকে অপমান’ না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
যাদবপুর নিয়ে মোদির ‘অরাজকতা’ তোপ
এদিন বারুইপুরের সভা থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন: “এক সময় গোটা বিশ্বে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সম্মানের সঙ্গে নেওয়া হত। এই ক্যাম্পাসের ভিত্তি ছিল জাতীয়তাবাদ। কিন্তু আজ সেখানে দেওয়ালে দেশবিরোধী স্লোগান লেখা হচ্ছে, ছাত্রদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পড়াশোনার বদলে ছাত্রদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করা হচ্ছে। আমি এখানে অরাজকতা নয়, পড়াশোনার পরিবেশ ফেরাতে চাই।” তৃণমূল সরকারকে বিঁধে মোদির প্রশ্ন, যে সরকার রাজ্যের সবথেকে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে পারে না, তারা তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কীভাবে সুরক্ষিত করবে? প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, যাদবপুরজুড়ে এখন তৃণমূলের ‘সিন্ডিকেটরাজ’ চলছে।
মেধা ও আবেগে আঘাত করবেন না: মমতা
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যাদবপুরের ছাত্ররা মেধার ভিত্তিতে পড়াশোনা করে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন: “ছাত্ররা কোনও বিষয়ে প্রতিবাদে সরব হওয়া মানেই অরাজকতা নয়। যাদবপুরের ছাত্ররা মেধার ভিত্তিতে ডিগ্রি নিয়ে নিজেদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে। এটা অরাজকতা নয়। প্রধানমন্ত্রী এভাবে বাংলাকে এবং বাংলার মেধাকে অপমান করতে পারেন না।”
‘তৃণমূল খাতা খুলতে পারেনি’
প্রথম দফার ১৫২টি আসনের ভোট নিয়ে এদিন আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি দাবি করেন, প্রথম দফায় তৃণমূল খাতা খুলতে পারেনি। বাংলার মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে বিজেপিকেই বেছে নিয়েছে। তাঁর দাবি, ১৫ বছরের তৃণমূল সরকার বাংলার প্রাচীন পরিচিতিকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে এবং ৪ মে-র পর রাজ্যে নতুন ভোর আসবে। যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বারুইপুরের এই সভা থেকে মোদির আক্রমণ এবং মমতার পালটা ডিফেন্স— দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণকে যে আরও তপ্ত করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।
