WB Govt. : হেলমেট ছাড়া বাইক চালালেই কড়া শাস্তি, অবৈধ টোল প্লাজা বন্ধে নবান্নের কড়া নির্দেশ !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- রাজ্যে বাইক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রুখতে এবার কড়া অবস্থানে রাজ্য সরকার। হেলমেট ছাড়া রাস্তায় নামলেই এবার কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে বাইক চালকদের। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে এই মর্মে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য পুলিশ। পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে অবৈধভাবে চলা টোল প্লাজা, টোলগেট ও ড্রপগেট অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন নতুন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল।রাজ্য পুলিশের জারি করা নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। এই আইন যাতে কোনওভাবেই লঙ্ঘন না হয়, তার জন্য রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। ট্র্যাফিক বিভাগ ও থানাগুলিকে যৌথভাবে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ADG ট্র্যাফিক নিয়মিত এই অভিযানের রিপোর্ট সংগ্রহ করবেন। কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় বাইক চালকদের হেলমেট না পরার প্রবণতা নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে রাতে হেলমেট ছাড়াই দ্রুতগতিতে বাইক চালানোর দাপট দেখা যায়। এর জেরে একের পর এক পথ দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আগেও বাইক চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কার্যত নিয়ম খাতায়-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। পুলিশের চোখ এড়িয়ে হেলমেট ছাড়া যাতায়াত অব্যাহত ছিল। এই অবস্থার পরিবর্তন করতেই এবার কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য প্রশাসন।
ট্র্যাফিক পুলিশের আধিকারিকদের মতে, দুর্ঘটনার সময় একটি হেলমেটই চালকের প্রাণ বাঁচাতে পারে। বারবার প্রচার সত্ত্বেও সচেতনতার অভাবেই অনেকে হেলমেট ছাড়া রাস্তায় বের হন। তাই এবার আইন প্রয়োগে কড়াকড়ি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতে রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালের দপ্তর থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যের সমস্ত অবৈধ টোল প্লাজা, টোলগেট, ড্রপগেট, ব্যারিকেড ও অপারেশনাল কালেকশন পয়েন্ট দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমস্ত জেলাশাসককে পাঠানো ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পুনরায় যাতে কোথাও অবৈধ টোলগেট বা কালেকশন পয়েন্ট না বসে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এই সব অবৈধ টোলগেট থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে কোনওভাবেই যেন টাকা আদায় না হয়, সে দিকেও কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে জেলাশাসকদের।
সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্যের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন। হেলমেট আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং অবৈধ টোল আদায় বন্ধ হলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। পাশাপাশি লাউডস্পিকার, বেআইনি কসাইখানা, গরুপাচার রোখার মতো একাধিক বিষয়েও কড়া নির্দেশিকা জারি হয়েছে। এবার দেখার, মাঠে নেমে পুলিশ-প্রশাসন কতটা কড়া হাতে এই নির্দেশগুলি কার্যকর করে।
