‘অনুপ্রবেশ মুক্ত বাংলা’ গড়ার ডাক: প্রথম ক্যাবিনেটেই বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: বাংলায় নতুন সরকার গঠনের প্রথম দিনেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মোদী-শাহের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে ‘অনুপ্রবেশকারী মুক্ত বাংলা’ এবং ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতির পথে হাঁটা শুরু করল নবান্ন। সোমবার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, রাজ্যের জনবিন্যাস রক্ষা করতে সীমান্ত সিল করার কাজ দ্রুত শেষ করা হবে এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে।
৪৫ দিনের ডেডলাইন: বিএসএফ পাচ্ছে জমি
এতদিন সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার দেওয়ার ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল দীর্ঘদিনের। কিন্তু এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানান, “রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। প্রথম দিনই আমরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিলাম।”
- জমি পরিমাণ: ১০৫ একর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু হচ্ছে।
- সময়সীমা: আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
- তত্ত্বাবধান: ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই কাজ সম্পন্ন হবে।
সামাজিক প্রকল্পে ‘অভারতীয়‘দের না: স্ক্রুটিনির নির্দেশ
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্পগুলি বন্ধ হওয়া নিয়ে যে জল্পনা ছিল, তাও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, জনমুখী কোনও প্রকল্পই বন্ধ হবে না, তবে সেখানে স্বচ্ছতা আনতে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও অভারতীয় যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না পায়, তা কঠোরভাবে দেখা হবে। এছাড়া কোনও মৃত মানুষের নামেও প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না। যথাযথ স্ক্রুটিনির পরই বাংলার মানুষ এই সুবিধা পাবেন।” এর মাধ্যমে স্পষ্ট যে, আধার কার্ড ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে সরকারি প্রকল্পের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।
শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্নের বাংলা গঠনের অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভোটের প্রচারে এসে বারবার জনবিন্যাস পরিবর্তনের যে আশঙ্কার কথা শুনিয়েছিলেন, নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেটে তাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হলো। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিএসএফ-কে দ্রুত জমি হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ রোধে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এতদিন জমি হস্তান্তরের যে ‘ঢিলেমি’ ছিল, তা কাটিয়ে এবার সীমান্ত পুরোপুরি সিল করাই লক্ষ্য নবান্নের।
অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ মেনে এক অনুপ্রবেশকারী মুক্ত বাংলা গড়াই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
