ভোটের ফল বেরোতেই সিজিও-তে সুজিত বসু, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের ইডি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে প্রাক্তন মন্ত্রী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় সংস্থা। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধাননগরের তৃণমূল নেতা সুজিত বসু। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছেলে সমুদ্র বসুও।
তদন্তে সহযোগিতা না কি চাপ?
সোমবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ ইডি দপ্তরে পৌঁছন সুজিত বসু। এর আগেও একাধিকবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের আবহে গত ৬ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় থেকেই ইডির একাধিক নোটিস পেয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সময় প্রচারের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে কিছুটা সময় চেয়েছিলেন তিনি। আদালতের নির্দেশ মেনেই ভোটের সময় হাজিরা এড়িয়েছিলেন এই দাপুটে নেতা।
ছেলের রেস্তরাঁ থেকে শ্রীভূমির বাড়ি— সর্বত্র তল্লাশি:
উল্লেখ্য, এই মামলার তদন্তে এর আগে সুজিত বসুর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকেও তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তদন্তের স্বার্থে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সুজিত বসুর শ্রীভূমির বাড়ি, অফিস এবং ভিআইপি রোডের ধারে তাঁর ছেলের রেস্তরাঁতেও ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিলেন আধিকারিকরা।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও সুজিতের অবস্থান:
নির্বাচন চলাকালীন ইডির এই তৎপরতাকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে একাধিকবার তোপ দেগেছিলেন সুজিত বসু। সেই সময় সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেছিলেন:
“সুজিত বসুর এত খারাপ অবস্থা নয় যে, চাকরি বিক্রি করে রোজগার করতে হবে। মানুষ সব জানে। এটা নির্বাচন কমিশন ও ইডির সাজানো ষড়যন্ত্র।”
নিস্তব্ধ হাজিরা:
গত ১ মে-ও আদালতের নির্দেশের কপি নিয়ে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। তবে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর এদিন প্রথমবার হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি প্রাক্তন মন্ত্রী।
পুরনিয়োগ মামলায় নতুন করে কোনও তথ্য উঠে আসাতেই কি এই জরুরি তলব, না কি নিয়মিত জিজ্ঞাসাবাদের অংশ— তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দিনভর সুজিত বসু ও তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।
