আজকের দিনেতিলোত্তমা

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের মৃত্যু: খুন বা আত্মহত্যা নয়, দুর্ঘটনার দিকেই ইঙ্গিত ময়নাতদন্তের রিপোর্টে

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের রহস্যমৃত্যুর তদন্তে নয়া মোড়। ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর লালবাজারের গোয়েন্দারা এখন মনে করছেন, এটি খুন বা আত্মহত্যা নয়, বরং এটি একটি দুর্ঘটনা। তবে তদন্তের স্বার্থে চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য এখনও অপেক্ষা করছে পুলিশ।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালীন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান অনামিকা মণ্ডল। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের কাছের ঝিল থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। অনামিকার পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্তভার গ্রহণ করে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি

ঘটনার কিনারা করতে গোয়েন্দারা গত কয়েক মাসে ব্যাপক তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েছেন। লালবাজার সূত্রে খবর:

  • ঘটনাস্থলের আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ বারবার খতিয়ে দেখা হয়েছে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, পড়ুয়া এবং নিরাপত্তারক্ষীসহ প্রায় ৫০ জনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
  • অনামিকার প্রাক্তন প্রেমিককেও একাধিকবার তলব করে জেরা করা হয়।

রিপোর্টে কীসের ইঙ্গিত?

প্রাথমিক ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, অনামিকার শরীরে খুনের কোনও স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। বরং রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এটি একটি দুর্ঘটনা। লালবাজারের একটি সূত্র জানাচ্ছে, অনামিকা যখন ঝিলে পড়ে যান, তখন তিনি প্রাণ বাঁচাতে কোনও কিছু আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। যার ফলে তাঁর হাতে কিছু ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়েছিল। ময়নাতদন্তকারী বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এই আঘাতের চিহ্নগুলি বাঁচার লড়াইয়েরই ইঙ্গিত দেয়।

চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষা

ঘটনার দিন অনামিকা শৌচাগারে গিয়েছিলেন, যার পাশেই ছিল ওই জলাশয়। গোয়েন্দাদের ধারণা, রাতের অন্ধকারে কোনওভাবে পা পিছলে তিনি ঝিলে পড়ে যান। তবে অনামিকার হাতের ক্ষত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে আরও কিছু নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের কাছে জানতে চেয়েছে লালবাজার।

পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসকদের কাছ থেকে সেই অতিরিক্ত তথ্যের ব্যাখ্যা এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই এই মামলার ইতি টানা হতে পারে। আপাতত ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপরই ঝুলে রয়েছে অনামিকা মণ্ডলের মৃত্যুরহস্যের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *