গ্রীন রুমআজকের দিনে

৩৩ বছর পর ফিরছে ‘খলনায়ক রিটার্নস’, টিজার রিলিজ হতেই ভাইরাল সঞ্জয়ের নয়া লুক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংল, কলকাতা:- নব্বইয়ের দশকের সেই অ্যান্টি-হিরো, যে নাম উচ্চারণ হলেই ভেসে ওঠে ধোঁয়ায় ঢাকা এক বিদ্রোহী মুখ—বল্লু। বহু বছর পর সেই চরিত্রেই আবার ফিরছেন সঞ্জয় দত্ত। শুক্রবার প্রকাশ্যে এল ‘খলনায়ক রিটার্নস’-এর টিজার, আর তাতেই স্পষ্ট, এ বার গল্প শুধু নস্টালজিয়ার নয়, আরও গভীর, আরও রুক্ষ এক যাত্রার।

সেই চেনা হাসি, কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুল আর চোখেমুখে একরোখা জেদ। ঠিক ৩৩ বছর আগে যে ‘বল্লু’র দাপটে কেঁপেছিল বলিউড, সেই চেনা মেজাজেই ফের ফিরছেন সঞ্জয় দত্ত। সুভাষ ঘাইয়ের কালজয়ী ছবি ‘খলনায়ক’-এর সিক্যুয়েল ‘খলনায়ক রিটার্নস’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে

টিজারে সঞ্জয় দত্তকে দেখা যায় একেবারে বিধ্বস্ত অথচ অটল চেহারায়—মুখে সময়ের দাগ, চোখে কঠোরতা। বল্লুর সেই পুরনো সত্তা যেন আরও গাঢ় হয়েছে। ক্যাপশনে এক রহস্যময় ইঙ্গিত—“কিছু গল্প শেষ হয় না… আবার শুরু হয়।” সঙ্গে পোস্টারেও একই সুর—“প্রত্যেক গল্পের একটা সময় থাকে… আর সেই সময় এসে গেছে।” এই ভাষা যেন ইঙ্গিত দিচ্ছে, পুরনো অধ্যায় শেষ হয়নি, বরং নতুন করে লেখা শুরু।। লম্বা দাড়ি আর তীক্ষ্ণ চাহনিতে সঞ্জু বাবার নতুন লুকে এখন মজেছে নেটদুনিয়া।

এই ছবির পেছনের গল্পও কম নাটকীয় নয়। সঞ্জয় দত্ত নিজেই জানিয়েছেন, ‘খলনায়ক’-এর সিক্যুয়েলের বীজ রোপিত হয়েছিল তাঁর জেলজীবনের দিনগুলোতে, ১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণ মামলায় বন্দি থাকার সময়। সেখানেই তিনি সহবন্দিদের জিজ্ঞেস করেছিলেন—এমন ছবি আবার দেখতে চান কি না। প্রায় চার হাজার বন্দির কাছ থেকে একই উত্তর—হ্যাঁ। শুধু তাই নয়, প্রত্যেককে তিনি নতুন ‘খলনায়ক’-এর গল্প এক পৃষ্ঠায় লিখে দিতে বলেন। সেই চার হাজার পৃষ্ঠা পড়ে শেষ করতে সময় লেগেছিল, কিন্তু সেখান থেকেই তৈরি হয় ভাবনা। পরে প্যারোলে বেরিয়ে সেই লেখা তিনি তুলে দেন সুভাষ ঘাইয়ের হাতে। ঘাই তখনই বলেন, এই গল্পকে ছবিতে রূপ দেওয়া উচিত।

পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের হাত ধরে ১৯৯৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘খলনায়ক’। বক্স অফিসে ঝড় তোলার পাশাপাশি মাধুরী দীক্ষিত এবং জ্যাকি শ্রফের রসায়নও নজর কেড়েছিল সকলের। এবার সিক্যুয়েল আসার খবরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, পুরনো কাস্টের কাউকেও কি ফের দেখা যাবে? যদিও সঞ্জয় বা পরিচালক, কারোর পক্ষ থেকেই এই নিয়ে এখনই খোলসা করে কিছু জানানো হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *