সদলবলে ‘লাঞ্চ’ করতে গিয়ে সাসপেন্ড
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,পশ্চিম মেদিনীপুর:- ভোটের দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কর্মীদের নাওয়া-খাওয়ার সময় থাকেনা বললেই চলে।সকাল ৬টা সথেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এর মাঝে খাওয়ার জন্য আলাদা করে কোনো সময় ভোটগ্রহণকারীরা সময় পান না, তবে একজন একজন করে খেতে যেতেই পারেন ।তাই বলে এমন ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না বললেই চলে।ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি আর ভোটকর্মীদের দম ফেলার ফুরসত নেই— এটাই হওয়ার কথা।
কিন্তু পশ্চিম মেদিনীপুরে দেখা গেল আলাদাই ছবি। ভোট চলছে! তাতে কী? দুপুর হতেই বুথ ফাঁকা করে সমস্ত কর্মীদের নিয়ে মধ্যহ্নভোজে গেলেন প্রিসাইডিং অফিসার। এমনকী বুথে দেখা পাওয়া যায়নি সেক্টর অফিসারকেও। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা বিধানসভার ৯ নম্বর বুথে। যদিও বিষয়টি জানতে পেরেই নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। গোটা ঘটনায় পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাতারাতি সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছে ওই বুথের প্রিসাইডিং অফিসার-সহ সমস্ত কর্মীকে।
ঘটনাটি শুনে প্রথমে বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও, বাস্তবে এমনটাই ঘটেছিল। বুথে দীর্ঘক্ষণ কর্মীদের দেখা না পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধ্য হয়েই তাঁদের ফোন করেন। ওপার থেকে ভেসে এল সেই অমোঘ উত্তর— “আমরা বাইরে আছি, পরে আসছি!” শুধু তাই নয়, ওই সময় সেক্টর অফিসারও নাকি বুথের ধারেকাছে ছিলেন না বলে জানা গেছে।
এই খবর কানে যেতেই নড়েচড়ে বসেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। আর তার পরেই কমিশনের কোপে পড়ে কার্যত ছিটকে গেলেন ওই বুথের ভোটকর্মীরা। প্রিসাইডিং অফিসার-সহ গোটা টিমকে তড়িঘড়ি সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
আপাতত রিজার্ভ পোলিং টিমকে পাঠিয়ে সামাল দেওয়া হচ্ছে ওই বুথের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপের পর, এখন অন্য বুথগুলোর কর্মীদেরও নিশ্চয়ই ‘লাঞ্চ ব্রেক’-এর অছিলায় এমন সাহসিকতা দেখানোর আগে দশবার ভাবতে হবে ভোটকর্মীদের!
