শুভেন্দুর সভায় না যাওয়ায় যুবককে ‘মারধর’, কমিশনে নালিশ তৃণমূলের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নন্দীগ্রাম: প্রথম দফার ভোটের আগে ফের শিরোনামে পূর্ব মেদিনীপুরের হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। আগামী ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে নির্বাচন, তার ঠিক আগেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সোনাচূড়া। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রচার কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ায় এক যুবককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীর উস্কানি রয়েছে বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
ঘটনার বিবরণ
আক্রান্ত যুবকের নাম অমর কর (৩২)। স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার সকালে নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের সোনাচূড়া অঞ্চলের সাউদখালির মনসা বাজারে তাঁকে একা পেয়ে আক্রমণ করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় অমর বর্তমানে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগের নেপথ্যে:
পরিবারের দাবি, অমরকে জোর করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ানো হলেও তিনি দলের প্রচার কর্মসূচি এড়িয়ে চলছিলেন। গত রবিবার শুভেন্দু অধিকারীর মিছিলে যাওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি যাননি। সেই ‘অপরাধেই’ সোমবার সকালে তাঁকে বাজারে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
কমিশনে নালিশ ও তৃণমূলের দাবি
এই ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দিয়ে তৃণমূল দাবি করেছে। অমর করকে নিজেদের কর্মী দাবি করে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে শুভেন্দু অধিকারীকে শোকজ করতে হবে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে।
”আক্রান্ত ব্যক্তি কোন দল করেন সেটা বড় কথা নয়, তাঁর ওপর যে অমানবিক অত্যাচার হয়েছে আমরা তার বিচার চাই। পুলিশ যেন নিরপেক্ষ তদন্ত করে।” — বাপ্পাদিত্য গর্গ, সদস্য, তৃণমূল কোর কমিটি।
পাল্টা প্রতিক্রিয়া বিজেপির
বিজেপি অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পালের দাবি, তৃণমূল ইচ্ছা করে ভোটের আগে পরিস্থিতি জটিল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “বিজেপির সংগঠন এত দুর্বল হয়নি যে একজন সাধারণ ভোটারকে মিছিলে আনতে মারধর করতে হবে। এর সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়।”
পুলিশি তৎপরতা
আক্রান্তের বাবা রতন কুমার করের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করেছে। ভোট ঘোষণার পর থেকেই নন্দীগ্রাম ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত, তার ওপর এই সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
