পার্থর বাড়িতে ইডি হানা, সিজিও-তে সুজিতের ছেলে ও রথীনকে তলব
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: লোকসভা ভোটের আবহে ফের তৎপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শনিবার সাতসকাল থেকেই কলকাতার একাধিক জায়গায় অভিযানে নেমেছেন আধিকারিকরা। একদিকে যেমন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন তদন্তকারীরা, তেমনই নিয়োগ দুর্নীতি মামলার সূত্রে অন্যান্য প্রভাবশালী নেতাদের উপরও বজায় রয়েছে কড়া নজরদারি।
শনিবার সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ নাকতলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে পৌঁছান ইডি আধিকারিকরা। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে বারবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে পারছিলেন না। তদন্তকারীদের তিনি জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে তাঁরা যেন বাড়িতে এসে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেই সূত্রেই আজকের এই হানা বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২২ সালে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিপুল অর্থসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ জেলবাসের পর গত নভেম্বরে জামিন পান তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতি: বাড়িটির ভেতরে বর্তমানে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে নথিপত্র নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সময়ে ইডির একটি দল পৌঁছে যায় ‘মিডলম্যান’ হিসেবে পরিচিত প্রসন্নকুমার রায়ের নিউটাউনের অফিসে। নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে প্রসন্নর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তাঁর অফিস থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। শুধুমাত্র পার্থ চট্টোপাধ্যায় নন, কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরদারিতে রয়েছেন শাসক শিবিরের আরও একাধিক হেভিওয়েট নেতা।
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এদিন তলব করা হয়েছিল মন্ত্রী সুজিত বসুকে। তবে তিনি হাসপাতালে ভর্তি থাকায় নিজে উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁর পরিবর্তে নথিপত্র নিয়ে ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু। মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষকেও এদিন সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি এখনও তদন্তকারীদের সামনে পৌঁছাননি।
ভোটের ঠিক মুখে এইভাবে শাসকদলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর বাড়িতে হানা এবং তলব নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে একে “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে অপব্যবহার করার চেষ্টা বলে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, আইন আইনের পথে চলছে এবং দুর্নীতির টাকা উদ্ধারের স্বার্থেই এই তল্লাশি। এখন দেখার, আজকের এই ম্যারাথন তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ থেকে নতুন কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে কি না।
