পানিহাটিতে ভোটপ্রচারে ‘হেনস্তা’, তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল বিজেপি প্রার্থী ‘অভয়া’র মায়ের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,পানিহাটি: ভোটপ্রচারে বেরিয়ে চরম হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুললেন পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা আর জি কর-কাণ্ডে নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা। বুধবার পানিহাটির ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা তাঁকে গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ তাঁর। যদিও শাসকদল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তৃণমূলের পালটা দাবি, সাধারণ মানুষকে সরকারি প্রকল্প বন্ধের কথা বলায় স্থানীয়রাই ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
বুধবার প্রচার চলাকালীন এই অশান্তির সূত্রপাত। বিজেপির অভিযোগ, পরিকল্পনা করে তাদের প্রার্থীর উপর হামলা চালানো হয়েছে। বিজেপি কর্মী সঙ্গীতা নন্দীর অভিযোগ, প্রচারের সময় ৩০-৩৫ জন মহিলা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসেন। এরপর ফুল ছিটিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং ঘুষি মারতে যান। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী জখম হয়েছেন বলে দাবি তাঁর। ‘অভয়া’র মায়ের অভিযোগ, তৃণমূল ভয় পেয়ে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে মেরে ক্ষান্ত হয়নি। এবার ভাবছে আমাকে মারবে। হয়তো ভাবছে তাহলে বিচার চাওয়ার আর কেউ থাকবে না।” বিজেপি প্রার্থীর হুঁশিয়ারি, বাংলার সব মেয়েদের সুরক্ষার জন্য তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং শেষ দেখে ছাড়বেন। গোটা ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন।
বিজেপির আনা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ। তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, বিজেপি প্রার্থী বহিরাগতদের নিয়ে এলাকায় প্রচার করছিলেন। প্রচার চলাকালীন তিনি সাধারণ মানুষকে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-সহ রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তৃণমূলের দাবি, সরকারি প্রকল্প বন্ধের কথা শুনে স্থানীয় মহিলারাই ক্ষিপ্ত হয়ে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এর সঙ্গে তৃণমূল বা কোনও রাজনৈতিক হামলার সম্পর্ক নেই।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই নিহত চিকিৎসকের মা-কেই পানিহাটি থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচনে আর জি কর ইস্যুর আবেগকে তুলে ধরতেই গেরুয়া শিবিরের এই পদক্ষেপ। তবে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে জোর জলঘোলা হয়েছিল। এবার প্রচারের ময়দানে এই হেনস্তার অভিযোগ নির্বাচনের উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।
