আজকের দিনেতিলোত্তমা

তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ কটাক্ষের জবাবে সরব গেরুয়া শিবিরের লিয়েন্ডার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে বঙ্গ রাজনীতিতে দলবদলের পারদ চড়ছে। সম্প্রতি ঘাসফুল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েছেন টেনিস কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজ। যোগদানের পর থেকেই তাঁকে ‘বহিরাগত’ বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে শাসকদল তৃণমূল। শনিবার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে বসে সেই সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন অলিম্পিক পদকজয়ী এই তারকা। স্পষ্ট জানালেন, তাঁর নাড়ির টান এই কলকাতার সঙ্গেই।

তৃণমূলের আক্রমণের পাল্টা দিতে গিয়ে লিয়েন্ডার তাঁর ছোটবেলার স্মৃতি মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন:

জন্ম ও শিক্ষা: “আমার জন্ম কলকাতায়। লা মার্টিনিয়ার স্কুলে পড়াশোনা করেছি। এটাই আমার মাতৃভূমি।”

ক্রীড়া জীবন: “সাউথ ক্লাবে টেনিসে হাতেখড়ি হয়েছে। কলকাতা ময়দানেই খেলাধুলো করে বড় হয়েছি। এখান থেকেই যা শেখার শিখে অলিম্পিকে পদক জিতেছি।” উল্লেখ্য, লিয়েন্ডার পেজ প্রখ্যাত কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বংশধর, যা তাঁর বাঙালি পরিচয়ের শিকড়কে আরও মজবুত করে।

রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামো নিয়ে তোপ

বিজেপিতে যোগ দিয়েই লিয়েন্ডার রাজ্যের বর্তমান ক্রীড়া ব্যবস্থার কঙ্কালসার দশা নিয়ে সরব হয়েছেন। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “বাংলায় টেনিসের জন্য কোনো আধুনিক পরিকাঠামো নেই। এখানে একটাও ইনডোর টেনিস কোর্ট নেই। ফলে প্রবল গরম বা বর্ষায় বাচ্চারা প্র্যাকটিস করতে পারে না। টেনিসের জন্য আলাদা কোনো স্টেডিয়ামও তৈরি করা হয়নি।”

লক্ষ্য ২০৩৬ অলিম্পিক

গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ও সুকান্ত মজুমদারের হাত ধরে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন লিয়েন্ডার। রাজনীতিকে ‘নতুন খেলা’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি জানান, তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ২০৩৬ সালের অলিম্পিক ভারতে আয়োজন করা। তাঁর মতে, খেলাধুলার উন্নতির সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। ২০২১ সালে গোয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন লিয়েন্ডার। তখন তাঁর প্রার্থী হওয়ার জল্পনা থাকলেও টিকিট পাননি। এবার বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, বাংলার ভোটে বিজেপিকে ‘অ্যাডভান্টেজ’ দিতে তিনি প্রস্তুত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *