বিয়ের পরও অন্যের সঙ্গে লিভ-ইন বেআইনি নয়ঃ এলাহাবাদ হাই কোর্ট
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,প্রয়াগরাজ: সমাজ এবং আইন যে এক নয়, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল দেশের উচ্চ আদালত। এক বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার পারস্পরিক সম্মতিতে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকাকে ‘আইনত অপরাধ নয়’ বলে পর্যবেক্ষণ জানাল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত সাফ জানিয়েছে, নাগরিকের ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে সামাজিক নীতি বা তথাকথিত নৈতিকতা বিচারকের কলম থামাতে পারে না।
শাহজাহানপুরের এক যুগল আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। মামলাকারী মহিলার অভিযোগ,তিনি এক বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে স্বেচ্ছায় লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছেন। তাঁর পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারছে না এবং তাঁদের ‘অনার কিলিং’ বা সম্মানের খাতিরে খুনের হুমকি দিচ্ছে। পুলিশের কাছে সুরক্ষা চেয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি।বিচারপতিদের মতে, যখন দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিজেদের ইচ্ছায় একসঙ্গে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন সেখানে আইনের হস্তক্ষেপের কোনো জায়গা নেই। আদালতের উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষণগুলি হলো:
আইন বনাম নৈতিকতা: আইনের চোখে যা অপরাধ নয়, কেবল সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তা ‘অনৈতিক’ বলে আদালত কাউকে দণ্ড দিতে পারে না।
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: সংবিধান প্রদত্ত ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার রক্ষা করা আদালতের প্রাথমিক দায়িত্ব।
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের কর্তব্য। শাহজাহানপুরের পুলিশ সুপারকে ব্যক্তিগতভাবে ওই যুগলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওই যুগলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অপহরণ মামলায় আপাতত গ্রেফতারির ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, মহিলার পরিবারকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁরা যুগলের কোনো ক্ষতি না করেন বা তাঁদের ওপর কোনো ধরণের মানসিক বা শারীরিক চাপ সৃষ্টি না করেন। এই রায়ের ফলে আবারও প্রমাণিত হলো যে, ভারতে ব্যক্তিগত পছন্দ ও লিভিং-টুগেদার সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা ক্রমেই আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
