আরজিকর মেডিকেল কলেজের লিফটে মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- আর জি কর হাসপাতালে লিফট কাণ্ডে পাঁচজনকে গ্রেফতার করল টালা থানার পুলিশ। লিফটে আটকে ২০ ই মার্চ গতকাল মৃত্যু হয় ৪০ বছর বয়সী দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের । সেই ঘটনায় তিনজন লিফটম্যান এবং দুইজন নিরাপত্তা রক্ষীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের আজ শিয়ালদহ আদালতে তোলা হবে ।
গতকাল শুক্রবার ওই পাঁচজনকে প্রথমে ডাকা হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তারপরেই তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। মৃতের বাবা অভিযোগ করেছিলেন লিফট পরিচালনার জন্য লিফটম্যান ছিলেন না । তার অভিযোগের ভিত্তিতে এই গ্রেফতারি বলে সূত্রের খবর । পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃতেরা হলেন লিফট ম্যান মিলন কুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস, মানস কুমার গুহ এবং নিরাপত্তা রক্ষী আশরাফুল রহমান এবং শুভদীপ দাস।
নিজের চার বছরের ছেলের চিকিৎসার জন্যই আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন অরূপ বাবু । সেখানেই লিফটে আটকে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার ভোরে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয় । তার দেহের ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পর জানা যায় হাত, পা, পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছে । তার হৃদপিণ্ড, ফুসফুস এবং যকৃত ফেটে গিয়েছে লিফট বিভ্রাটের কারণে । আরজি কর হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানান, মৃত অরূপ বন্দোপাধ্যায় এর বাবা তাঁর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। সেই অভিযোগ টালা থানাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের হয়। অভিযোগে কী জানানো হয়েছে সেই প্রশ্নের উত্তর সুপার বলেন, ‘‘পরিবারের বক্তব্য, লিফ্টে আটকে তিনি (অরূপ) আহত হন। লিফ্ট ঠিকঠাক চলছিল। একটি বোতাম চাপা হয়, তার পরেই লিফ্ট ওঠা-নামা করে। তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা।’’ হাসপাতালের সুপারের কথায়, ‘‘পরিবারের বক্তব্য অনুসারে, লিফ্ট একটি জায়গায় নামে। ভিতরে আটকে থাকা তিন জন বেরোতে যান। কিন্তু লিফ্টের বাইরে সেখানে কোলাপসিপল গেট ছিল। সেই সময় তিনি বেরোতে যান, তখন লিফ্ট উঠতে শুরু করে। সেই সময় লিফট এবং দেওয়ালের মাঝে আটকে পড়েন (অরূপ)।’’তারপর তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতুন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে । হাসপাতালে ৩২ টি লিফট রয়েছে । লিফটের ভিতরে এবার থেকে কর্মী বসে থাকবেন টুল নিয়ে। লিফটের বাইরে নয় । কোন লিফটে কর্মী না থাকলে সেখানে উঠতে দেওয়া হবে না । এই ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তার জন্যই এই ব্যবস্থা। আরজি করে লিফট কান্ডের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন।
