আজকের দিনেভারত

রক্তস্নান দালাল স্ট্রিটে! ধসে পড়ল ভারতের শেয়ার বাজার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্যুডিয়া বাংলা, মুম্বইঃ- যুদ্ধের  আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য, আর তার আঁচ এসে লাগল ভারতের দালালে স্ট্রিটে। সোমবার বাজার খুলতেই রক্তস্নান দেখল ভারতীয় শেয়ার বাজার। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সেনসেক্স ২,০০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

​সোমবার সকালে বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনসেক্স ২,১৭৭.৬১ পয়েন্ট পড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬,৭৪১.২৯-এ। অন্যদিকে, পাল্লা দিয়ে পতন হয়েছে নিফটিরও। নিফটি ৬৪৭.৬০ পয়েন্ট হারিয়ে থিতু হয়েছে ২৩,৮০২.৮৫ পয়েন্টে।

​বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধসের পেছনে কাজ করছে একাধিক ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ।
​হরমুজ প্রণালী বন্ধ: যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেল পরিবহণের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে ভারত মহাসাগরে কোনো তেলবাহী জাহাজ ঢুকতে পারছে না।

​জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী। ভারত যেহেতু আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাই এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে।

​বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার: বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তড়িঘড়ি ভারতের বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তেহরানসহ ইরানের একাধিক শহর এখন ধ্বংসস্তূপ। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যু সংঘাতের আগুনকে আরও উসকে দিয়েছে।
​জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার সেনাঘাঁটি এবং ইজরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো দেশগুলোও এখন যুদ্ধের রোষানলে। ইরানে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্য়েই দুই হাজার ছাড়িয়েছে। রাশিয়া, ভারত ও চিনের মতো দেশগুলো শান্তির আবেদন জানালেও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই।

​আজকের এই পতনে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে তিনটি প্রধান সেক্টর:
​ব্যাঙ্কিং সেক্টর
​আইটি (IT) সেক্টর
​ধাতব (Metals) শিল্প
যতক্ষণ না মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হচ্ছে এবং তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাজারের এই অস্থিরতা বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি এড়াতে সোনা বা অন্যান্য স্থিতিশীল সম্পদে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *