সাংবাদিক হত্যা মামলায় অব্যাহতি পেলেও, এখনই মুক্তি নেই জেল থেকে গুরমিত রাম রহিমের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, রোহতকঃ- দীর্ঘ দুই দশক পর সাংবাদিক রামচন্দর ছত্রপতি হত্যা মামলায় নাটকীয় মোড়। তথ্যপ্রমাণের অভাবে এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন বিতর্কিত স্বঘোষিত ধর্মগুরু তথা ডেরা সচ্চা সৌদা প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিং। ২০১৯ সালে নিম্ন আদালত তাঁকে এই খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেও, উচ্চ আদালত এদিন সেই রায় খারিজ করে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এই স্বস্তি কেবল খাতায়-কলমেই, কারণ জোড়া ধর্ষণ মামলায় ২০ বছরের সাজা কাটতে এখনই জেল থেকে বেরোনো হচ্ছে না তাঁর।
২০০২ সালের অক্টোবর মাসে নিজের বাড়ির সামনেই গুলবিদ্ধ হন সাংবাদিক রামচন্দর ছত্রপতি। তিনি ‘পুরা সাচ’ নামক একটি সংবাদপত্র চালাতেন। অভিযোগ ছিল, ডেরা সচ্চা সৌদার সদর দপ্তরে নারী অনুসারীদের ওপর যৌন নির্যাতনের এক বেনামী চিঠি প্রকাশের প্রতিশোধ নিতেই তাঁকে হত্যা করা হয়। ২০১৯ সালে সিবিআই আদালত রাম রহিম সহ আরও তিনজনকে এই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শুনিয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এবার সেই মামলা থেকেই অব্যাহতি পেলেন ৫৭ বছর বয়সী এই ধর্মগুরু।
সাংবাদিক হত্যা মামলায় রেহাই পেলেও রাম রহিমের ওপর ঝুলে রয়েছে আরও গুরুতর অপরাধের সাজা। ২০১৭ সালে দুই নারী অনুসারীকে ধর্ষণের দায়ে তাঁকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি হরিয়ানার রোহতকের সুনিয়া জেলে সাজা ভোগ করছেন।
খাতায়-কলমে রাম রহিম জেলবন্দি হলেও, তাঁর ঘনঘন প্যারোলে মুক্তি পাওয়া নিয়ে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে হরিয়ানার বিজেপি সরকার। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে তিনি মোট ৩২৬ দিন জেলের বাইরে কাটিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার নির্বাচনগুলোর ঠিক আগেই তাঁর এই দফায় দফায় প্যারোল পাওয়া নিছক কাকতালীয় নয়। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই এক ‘ধর্ষক ও অপরাধীকে’ বারবার সরকারি দাক্ষিণ্য দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিক হত্যা মামলায় অব্যাহতি পেলেও, জনমানসে এবং আইনি পরিসরে রাম রহিমের ভাবমূর্তি ও তাঁর বারবার জেল থেকে মুক্তি পাওয়া নিয়ে বিতর্ক যে সহসা থামছে না, তা বলাই বাহুল্য।
