আজকের দিনেতিলোত্তমারাজনীতি

হাতছাড়া হতে পারে রাহুলের রাজ্যসভার নিশ্চিত আসন

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়ন পেশের পর থেকেই বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী রাহুল সিনহাকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। হাতে জয় নিশ্চিত করার মতো বিধায়ক সংখ্যা থাকলেও, কেবল নথিপত্রের কিছু কারিগরি ত্রুটির কারণে তাঁর প্রার্থিপদ শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল অনিশ্চয়তা। আজ, শুক্রবার স্ক্রুটিনি (নথি পরীক্ষা) পর্বের আগেই তাঁকে সমস্ত ত্রুটি সংশোধনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে স্ক্রুটিনি শুরু হয়েছে। নজিরবিহীনভাবে বিধানসভায় উপস্থিত হয়েছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক নথি দিতে না পারলে বাতিল হতে পারে রাহুলের মনোনয়ন।

বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিজেপি নেতৃত্ব যখন রাহুল সিনহার মনোনয়ন জমা দিতে যান, তখনই দেখা দেয় প্রথম বিভ্রাট। জানা গেছে, প্রথমে চার সেট ফর্ম পূরণ করলেও তাতে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর তড়িঘড়ি দ্বিতীয়বার নথি জমা দিতে হয়। গতকাল মনোনয়নপত্র পূরণে বিস্তর ভুলভ্রান্তি করেছিলেন বিজেপির একমাত্র প্রার্থী রাহুল সিনহা। দফায় দফায় নতুন করে ফর্ম পূরণ করেন তিনি। শেষে সন্ধ‌্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে প্রাথমিকভাবে মনোনয়পত্র গৃহীত হওয়ার খবর নিয়ে বের হন তিনি। তবে একটি নথিতে সমস্যা রয়েছে। রাহুলকে জানানো হয়েছে, যে নথি তিনি দিতে ভুল করেছেন, তা স্ক্রুটিনি শুরুর আগেই জমা করতে হবে। তা না হলে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সেক্ষেত্রে আর সাংসদ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না তাঁর। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, রাহুলকে বিপন্মুক্ত করতেই বিধানসভায় হাজির হয়েছেন মনোজ আগরওয়াল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ও বুধবার বাংলায় সরকারি ছুটি থাকায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি (যেমন এনওসি বা হলফনামা সংক্রান্ত তথ্য) সংগ্রহ করতে দেরি হয়েছিল।

সূত্রের খবর, জমা দেওয়া নথিতে সম্পত্তির খতিয়ান বা আইনি ঘোষণা সংক্রান্ত কিছু অংশে অস্পষ্টতা লক্ষ্য করেছেন নির্বাচন আধিকারিকরা। শুক্রবার স্ক্রুটিনির সময় যদি নথিতে বড় কোনো অসঙ্গতি থেকে যায়, তবে নির্বাচন কমিশন তাঁর মনোনয়ন বাতিল করতে পারে।

​আসন হারানোর ভয়: বিজেপির জন্য এই একটি আসন গাণিতিকভাবে নিশ্চিত হলেও, মনোনয়ন বাতিল হলে বিকল্প প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার সময় কার্যত আর নেই। ফলে আসনটি হাতছাড়া হওয়ার একটি ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদি রাহুলের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়, সেক্ষেত্র কী হবে? নিয়ম বলছে, নতুন করে একটি আসনের জন‌্য ভোট ঘোষণা করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। তেমন হলে সেই আসনে ভোটাভুটি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। এতে একটি আসনের জন‌্য তৃণমূলও আরেকবার প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাবে। আর একটিমাত্র আসনের প্রার্থীর জন‌্য তখন তৃণমূলের হাতে থাকবে ২২০ জন দলীয় বিধায়কের ভোট। উলটোদিকে বিজেপির হাতে থাকা ৬৫ বিধায়কের ভোট যার মোকাবিলা করতে পারবে না। ফলে ওই আসনও জিতে যাবে তৃণমূলই।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বিরোধী দলকে মানসিক চাপে রাখতে শাসক দল তিলকে তাল করছে। রাহুল সিনহা নিজে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানিয়েছেন, “দল দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আমায় এই সম্মান দিয়েছে। নথিপত্রের সাধারণ কিছু সমস্যা মিটে যাবে, জয় নিয়ে আমি নিশ্চিত।”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *