মনোনয়ন জমা দিতে নাজেহাল রাহুল সিনহা, ত্রাতার ভূমিকায় শুভেন্দু-শমীক
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে বিধানসভায় চরম বিভ্রাটের মুখে পড়লেন বিজেপি প্রার্থী তথা দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা। মনোনয়ন পত্রের একাধিক জায়গায় ভুল করায় এক সময় পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের তৎপরতায় সেই যাত্রায় রক্ষা পেলেন তিনি।
সূত্রের খবর, এদিন বিধানসভায় রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে আসেন রাহুল সিনহা। সঙ্গে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্যসহ বিজেপি বিধায়করা। কিন্তু স্ক্রুটিনির সময় দেখা যায়, রাহুল সিনহার জমা দেওয়া ফর্মে বেশ কিছু যান্ত্রিক ও তথ্যগত ত্রুটি রয়েছে। হলফনামার নির্দিষ্ট কিছু কলামে তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় জল্পনা শুরু হয়— তবে কি বাতিল হতে পারে আদি বিজেপি নেতার মনোনয়ন? মাঠে নামলেন শুভেন্দু-শমীক
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি আসরে নামেন শুভেন্দু অধিকারী। অভিজ্ঞ বিধায়ক হিসেবে তিনি নিজেই ফর্মে থাকা ত্রুটিগুলো খতিয়ে দেখেন। পাশে দাঁড়িয়ে থেকে ভুল সংশোধনে সাহায্য করেন শমীক ভট্টাচার্যও। নতুন করে ফর্ম পূরণ এবং আইনি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখে পুনরায় তা পেশ করার ব্যবস্থা করেন দুই শীর্ষ নেতা। দীর্ঘক্ষণ টালবাহানার পর শেষমেষ নিখুঁতভাবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
রাহুল সিনহার মতো প্রবীণ এবং অভিজ্ঞ নেতার হাত দিয়ে এই ধরনের ‘ভুল’ হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে হাসাহাসি শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের নেতাদের কটাক্ষ, “বিজেপির ঘরোয়া কোন্দল এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সিনিয়র নেতারাও এখন খেই হারিয়ে ফেলছেন।” যদিও বিজেপি শিবিরের দাবি, এগুলো নেহাতই করণিক ভুল এবং শুভেন্দু-শমীকের উপস্থিতিতে তা দ্রুত সমাধান করে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের রাজ্যসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের একটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে রাহুল সিনহা। তবে এই ‘মনোনয়ন বিভ্রাট’ নিয়ে আপাতত সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
