আজকের দিনেবিশ্বভারত

মোদির ফেরার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই কেন ইরানে হামলা? সব ধোঁয়াশা কাটালেন ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ-  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফল ইসরায়েল সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঠিক পরেই গত শনিবার ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত নিয়ে বড় বয়ান দিলেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সফরের সাথে এই হামলার কোনো সম্পর্ক নেই এবং মোদী এই ঘটনার বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না।
​”মোদীর সফরের সাথে হামলার যোগ নেই”।

​একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী যখন ইসরায়েলে ছিলেন, তখন এই হামলার কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সময় চূড়ান্ত ছিল না। তিনি বলেন, ​”প্রধানমন্ত্রী মোদী ইসরায়েল ছাড়ার পরই একটি ‘অপারেশনাল সুযোগ’ তৈরি হয়। রিয়েল-টাইম ইন্টেলিজেন্স বা গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শনিবার সকালে আমাদের সিকিউরিটি ক্যাবিনেট এই হামলার অনুমোদন দেয়। প্রধানমন্ত্রী যখন ইসরায়েলে ছিলেন, তখন এই হামলার বিষয়ে আমাদের কাছেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল না।” তবে, হঠাৎ কেন এই হামলা?
​রাষ্ট্রদূত জানান, ইসরায়েল গত কয়েক বছর ধরে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু সঠিক মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছিল। শনিবার সেই সুযোগ আসায় তারা হামলা চালায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভারত বা মোদীকে এই সামরিক পরিকল্পনার কথা জানানোর মতো কোনো পরিস্থিতি তখন ছিল না।

​প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফরের পর হামলার ঘটনায় ভারতে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছিল যে, মোদীর উপস্থিতিতেই কি এই নীল নকশা তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রদূত আজারের এই মন্তব্য সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিল। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, মোদীর সফর ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে, যার সাথে এই আকস্মিক সামরিক সংঘাতের কোনো যোগসূত্র নেই। ​ভারত সরকার ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে ক্যাবিনেট কমিটির মিটিং ডেকে সেখানে আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ভারত বরাবরের মতোই আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফেরানোর আবেদন জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *