সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়ির তাণ্ডব: মদ্যপ যুবকের বেপরোয়া গতিতে পিষ্ট ৩
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- রাতের কলকাতায় ফের বেপরোয়া গতির বলি সাধারণ মানুষ। এবার ঘটনাস্থল দক্ষিণ কলকাতার পাটুলি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্টিকার লাগানো একটি বিলাসবহুল গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হলেন অন্তত তিনজন পথচারী। অভিযুক্ত চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় পাটুলি এলাকা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে পাটুলি মোড়ের কাছে প্রচণ্ড গতিতে একটি সাদা রঙের গাড়ি আসছিল। গাড়িটির সামনে এবং পিছনে সরকারি স্টিকার লাগানো ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়িটি এতটাই অনিয়ন্ত্রিত ছিল যে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারী এবং সাইকেল আরোহীদের সরাসরি ধাক্কা মারে। ধাক্কার চোটে ছিটকে পড়েন তিন যুবক।
দুর্ঘটনার পরই স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা ঘাতক গাড়িটিকে ধাওয়া করে আটকে ফেলেন। দেখা যায়, চালকের আসনে বসা যুবক মদ্যপ অবস্থায় টলমল করছে। ধৃত দুই যুবকের নাম স্বপ্ননীল ঘোষ আর নীলাব্জ ঘোষ। জেরায় ধৃত দুজন জানিয়েছেন, তাঁরা নাকি একটি নামী সংস্থায় ম্যানেজার পদে কর্মরত। অভিযোগ, নরেন্দ্রপুর থেকে বাইপাস ধরে দ্রুতগতিতে গাড়ি নিয়ে পাটুলি থানা এলাকায় ঢোকে ওই দুজন। সেখানে প্রথমে বাঘাযতীন রেল গেটের সামনে একটি বাইক আরোহীকে ধাক্কা মারেন ওই মদ্যপ যুবক। অভিঘাত এতটাই ছিল যে দুর্ঘটনার পরেই একেবারে রাস্তায় ছিটকে পড়েন ওই বাইক আরোহী। ঘটনায় গুরুতর জখম হন তিনি। আর তা দেখে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করেন চালক। সেই সময় পাটুলি থানা এলাকার ঘোষপাড়া বলে একটি এলাকায় আরও এক পথচারীকে ধাক্কা মারে ওই অভিশপ্ত গাড়িটি। ঘটনা দেখতে পেয়েই স্থানীয় মানুষজন ছুটে আসে এবং গাড়িটিকে আটকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু অভিযুক্ত গাড়ি থামাননি। উলটে পালানোর ছক করছিল অভিযুক্তরা। সেই সময় কিছুটা দূরে আরও এক স্কুটার চালককে ধাক্কা মারে। এদিকে ঘটনার খবর পৌঁছায় স্থানীয় পাটুলি থানায়। সঙ্গে সঙ্গে অভিশপ্ত গাড়িটিকে ট্র্যাক করা শুরু করেন পুলিশ আধিকারিকরা। শেষমেশ বাইপাসের একটি জায়গায় গাড়িকে আটক করা হয়। হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় স্বপ্ননীল ঘোষ আর নীলাব্জ ঘোষকে।
আহত তিনজনকে উদ্ধার করে দ্রুত বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় একজনকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, গাড়িটি সরকারি স্টিকার লাগানো থাকলেও সেটি আদতে কোনো দপ্তরে ভাড়ায় চলত কি না বা চালক কোনো আধিকারিকের আত্মীয় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইদানীং ব্যক্তিগত গাড়িতে বেআইনিভাবে সরকারি স্টিকার লাগিয়ে আইন ভাঙার প্রবণতা বেড়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
