প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা: বাদ, বিচারাধীন ও অনুমোদিত,তিন ভাগে বিভক্ত নামের চিত্র
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গে প্রায় চার মাস ধরে চলা বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়ার পর পুরোদমে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার এই বিশেষ রিভিশন কাজটি ভোটারের তথ্য যাচাই-বাছাই, পুরোনো তথ্য সরিয়ে দেওয়া ও ভুল ঠিক করা-এর জন্য শুরু হয়েছিল, যাতে শুদ্ধ ও আপডেটেড ভোটার তালিকা পাওয়া যায়।
চূড়ান্ত তালিকায় মোট ৭.০৮ কোটি (৭ কোটি ৮ লক্ষ) ভোটারের তথ্য আছে যাদের তথ্য যাচাই হয়ে আছে বা যাচাই প্রক্রিয়ায় আছে। তবে এই তালিকা সম্পূর্ণ নয়, অনেক ভোটারের তথ্য এখনো বিচারাধীন আছে এবং কিছু নাম ‘ডিলিটেড” হিসেবে দেখা যাবে। এর মানে হচ্ছে নির্বাচন কমিশন যে সকল ভোটারের তথ্য যাচাই করে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি বা যারা রিভিউ-এর জন্য শুনানিতে উপস্থিত হননি, তাদের নাম এই অবস্থায় রাখা হয়েছে বা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তালিকাটি বিভাগভিত্তিক তিনটি ভাগে সাজানো হবে: যাদের আবেদন ও তথ্য ঠিক আছে তারা চূড়ান্ত তালিকায় নাম পাবেন। যাদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে সমস্যা আছে তাদের পাশে লেখা হবে ‘আন্ডার এডজুডিডিকশন”’। যাদের আবেদনে প্রয়োজনীয় তথ্য না মিলেছে বা তারা নিজে যাওয়া সম্ভব হয়নি তাদের পাশেই লেখা থাকবে ‘ডিলিটেড” অর্থাৎ এই মুহূর্তে ভোটার তালিকা থেকে বাদ।
প্রকাশিত তালিকা অনলাইনে পাওয়া যাবে নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ইসিআই নেট এ্যাপ-এ, যেখানে ভোটাররা তাঁদের এপিক নম্বর বা ভোটার আইডি নম্বর দিয়ে নিজের নাম আছে কি-না তা খুঁজে দেখতে পারবেন। পাশাপাশি অফলাইনভাবে জেলা প্রশাসনের অফিস, ব্লক অফিস, এসডিও বা বিএডিও অফিস-এ হার্ডকপি তালিকা রেখে দেওয়া হচ্ছে।
এটা লক্ষ্যণীয় যে অনেকের নাম এই প্রথম তালিকায় ‘আন্ডার এডজুডুকশন” হিসেবে আছে অর্থাৎ তাঁদের অবস্থা এখনো যাচাই-বাছাইয়ের উপর নির্ভর করছে এবং পরবর্তী সাপ্লিমেন্টারি (পরেক্ষণাত্মক) তালিকায় তাদের নাম স্থায়ীভাবে যোগ বা বাদ দেওয়া হবে। এমনটাই জানিয়েছে কমিশন।
তাদের জন্য যারা তালিকায় আপনি নেই বা ‘ডিলিটেড” দেখাচ্ছে, কমিশন পরবর্তী পর্যায়ে ফর্ম ৬ বা সংশোধনের আবেদন করার সুযোগ দেবে যাতে ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা ঠিক করা যায়।
সারসংক্ষেপে, আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এতে ভোটারদের নাম বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে দেখানো হচ্ছে অনুমোদিত, বিচারাধীন বা বাদ পড়া এবং ভোটাররা অনলাইনে বা অফিসে গিয়েও নিজের অবস্থান খুঁজে দেখতে পারবে। পরবর্তী পর্যায়ে আরও আপডেট ও সংশোধনীর তালিকা আসবে নির্বাচনী কার্যক্রমের সময় অনুযায়ী।
