আজকের দিনেতিলোত্তমারাজনীতি

মুকুল রায়ের প্রয়াণে কি বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়-এর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বঙ্গ রাজনীতি। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এক্স হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “বঙ্গ রাজনীতিতে একটা যুগের অবসান।” তৃণমূলের জন্মলগ্নের সহযোদ্ধার মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, মুকুল রায়ের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর তাঁর ছেলে শুভ্রাংশুকে ফোনও করেন অভিষেক। বড় দাদার মতো কঠিন সময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-ও। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও, মুকুল রায়ের সংগঠক হিসেবে দক্ষতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবদানকে স্মরণ করেছেন বহু নেতা। ইতিমধ্যেই তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছেন অনুগামী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকেই দলের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত ছিলেন মুকুল রায়। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান মুখ। দীর্ঘদিন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতায় বাংলা ছাড়াও ত্রিপুরা, অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠন বিস্তার করে দল।

https://x.com/abhishekaitc/status/2025787959333810310?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E2025787959333810310%7Ctwgr%5E87a64914ce7c9068d9461503eb4e2f9015f59154%7Ctwcon%5Es1_c10&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.sangbadpratidin.in%2Fkolkata%2Fabhishek-banerjee-opens-up-over-mukul-roys-death%2Fpid%2F1131310%2F

বঙ্গ রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম মুকুল রায়। ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় স্তরের ক্ষমতার কেন্দ্রে দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন সংগঠক, কৌশলী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এক নেতা।
রাজনীতিতে তাঁর উত্থান কংগ্রেসের হাত ধরে। ছাত্র রাজনীতি থেকেই ধীরে ধীরে উঠে আসেন মূল ধারায়। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে কংগ্রেস ছেড়ে গঠন করেন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। দলের জন্মলগ্ন থেকেই তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান সংগঠক। ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব সামলান।

সাংগঠনিক রাজনীতিতে তাঁর দক্ষতার জন্য দ্রুত বিস্তার লাভ করে তৃণমূল। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ত্রিপুরা, অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও দলের সংগঠন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। দলীয় অন্দরে কৌশলী পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক পরিকল্পনার জন্য তাঁকে ‘চাণক্য’ বলেও অভিহিত করা হত।

উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচড়াপাড়া থেকে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হলেও পরে জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তার করেন তিনি। বিধায়ক, রাজ্যসভার সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। ইউপিএ সরকারের আমলে রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রকের দায়িত্বও পান।নতিনি রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন এবং বিধায়ক হিসেবেও কাজ করেছেন।

তবে রাজনৈতিক জীবনে বড় মোড় আসে ২০১৭ সালে। তিনি তৃণমূল ছেড়ে যোগ দেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কিন্তু ২০২১ সালে তিনি আবার তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। এর পর ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যান।

জীবনের শেষ কয়েক বছর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন মুকুল রায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের উত্থান, সাফল্য, বিতর্ক ও প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বঙ্গ রাজনীতির এক উল্লেখযোগ্য চরিত্র। তাঁর প্রয়াণে সমাপ্তি ঘটল এক সময়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক কৌশলীর দীর্ঘ অধ্যায়ের।
বঙ্গ রাজনীতিতে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *