আজকের দিনেবাংলার আয়না

ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হচ্ছেন না গৌতম দেব

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে জল্পনার মধ্যেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন গৌতম দেব। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে আর প্রার্থী হচ্ছেন না তিনি, শুক্রবার এক সরকারি মঞ্চ থেকে এই ঘোষণা করেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জন্মভূমি শিলিগুড়িতেই ফিরছেন এবং সেখান থেকেই লড়াইয়ে নামবেন।
শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম ধনতলায় ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট রুরাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গৌতম দেব বলেন, “আমি আর ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি থেকে দাঁড়াচ্ছি না। প্রকাশ্যে বলে গেলাম। আমি আমার জন্মভূমি শিলিগুড়িতে ফিরে যাচ্ছি। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে আমি যা কাজ করেছি, আমাদের সরকার যা কাজ করেছে, তা এর আগে হয়নি। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে আমাদের দল আর তারপরে বিধানসভা নির্বাচনে আমি পরাজিত হয়েছি। এখানে কাজ করবে তৃণমূল সরকার আর ভোটে জয় পাবে বিজেপি এটা হতে পারে না।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শিখা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হন গৌতম দেব। এছাড়া সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে ৭২ হাজার ভোটে লিড পেয়েছিলেন জয়ন্ত রায়। এই পরিসংখ্যান ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল এবার কোন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন গৌতম দেব? এই ঘোষণার পরই কটাক্ষ শানান ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়িকা শিখা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “ইয়ে ডর মুঝে আচ্ছা লাগা। গৌতম দেব বুঝে গিয়েছেন যে তিনি এবার দাঁড়ালে আর জয়ী হবেন না। তাই আগে থেকে সরে যাচ্ছেন। মানুষ তাঁকে বর্জন করেছে সেটা গৌতম দেব বুঝতে পেরেছেন। আর উনি কি দাঁড়াবেন, দলই ওঁনাকে টিকিট দেবে না। মানুষকে বিভ্রান্ত করা ছাড়া কিছু করেননি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিলিগুড়ি গৌতম দেবের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মক্ষেত্র এবং সাংগঠনিক ভিত্তিও সেখানে তুলনামূলকভাবে মজবুত। বিধানসভায় পরাজয়ের পর তিনি শিলিগুড়ি পুরনিগমের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যা ইঙ্গিত দিয়েছিল শহরকেন্দ্রিক রাজনীতিতেই তাঁর আগ্রহ বেশি।

ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন নজর, শিলিগুড়ি কেন্দ্রে প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয় কিনা এবং সেই লড়াই কতটা তীব্র হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *