আজকের দিনেভারত

লালকেল্লা ফের জঙ্গিদের টার্গেট? চাঁদনি চক-সহ একাধিক মন্দিরে হামলার আশঙ্কা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- গত বছরের নভেম্বর মাসে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ গাড়িবোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। ৯ নভেম্বরের সেই ঘটনায় প্রাণ হারান ১২ জন, আহত হন অন্তত ২৪ জন। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে সর্বত্র। পরে আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। রাষ্ট্রসংঘের সন্ত্রাসবিরোধী পর্যবেক্ষণ দলের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের নামও রিপোর্টে উঠে আসে। সেখানে আরও বলা হয়, জঙ্গি সংগঠনটি তাঁদের কার্যকলাপ বাড়াতে একটি ‘মহিলা ব্রিগেড’ও তৈরি করেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আশঙ্কার খবর সামনে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পাকিস্তানমদতপুষ্ট আরেক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা ফের দিল্লিকে টার্গেট করতে পারে। শুধু লালকেল্লাই নয়, পুরনো দিল্লির ব্যস্ত এলাকা চাঁদনি চকের একটি মন্দির এবং দেশের আরও কয়েকটি প্রধান মন্দিরের কাছেও বিস্ফোরণের ছক কষা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও এই তথ্য এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সতর্ক হয়েছে।

এই সতর্কতার পেছনে রয়েছে গত ৬ ফেব্রুয়ারির একটি ঘটনা। সেদিন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় মারা যান অন্তত ৩১ জন, আহত হন ১৬০ জনেরও বেশি। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নামাজের সময় বহু মানুষ মসজিদে উপস্থিত ছিলেন। হামলাকারী ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে গেটেই আটকে দেন। কিন্তু তারপরও বিস্ফোরণ ঘটে যায়। এতে মসজিদের একটি ফটক ও আশপাশের কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এর আগেও ইসলামাবাদে আদালত চত্বরে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে বহু মানুষ প্রাণ হারান। সেই হামলার দায় স্বীকার করেছিল আইএস। এখন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক ইসলামাবাদ বিস্ফোরণের ঘটনাকে ‘প্রতিশোধ’-এর কারণ দেখিয়ে ভারতে নাশকতার চেষ্টা হতে পারে।

তবে সব তথ্যই আপাতত গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবুও সতর্কতা হিসেবে দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানের আশপাশে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহজনক গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি যে কোনও সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *