আজকের দিনেগ্রীন রুম

‘একটা নয়, বাকি ৭৯টা ধর্ষণের ঘটনার কথা কে বলবে? আরজি কর প্রসঙ্গে বললেন তাপসী পান্নু

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:-কলকাতা শহর এখনো ভুলতে পারেনি আরজিকর মেডিকেল কলেজের সেই নির্মম নৃশংস ঘটনা । বিচার পর্ব এখনো চলছে । গত সোমবার আদালত কক্ষে যখন ED নিজেদের বক্তব্য রাখছিল তখন স্পষ্ট হয়ে গেল এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা । দুর্নীতি মামলায় সন্দীপ ঘোষ সহ চার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা করলেও বিচার প্রক্রিয়া কার্যত থমকে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে কিছু অতি জরুরী অনুমতি এখনো মেলেনি। যার জন্য এই বিচার প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে এগোনো যাচ্ছেনা। আইনি জটিলতার কারণে নির্যাতিতার পরিবার-পরিজন ও রাজ্যবাসীর মধ্যে ক্ষোভ এবং অবিশ্বাস বেড়েই চলেছে। শুধু পুলিশ নয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এর ভূমিকাও খতিয়ে দাকার আবেদন জানানো হয়েছে নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে। পিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারেন যাদের জন্য এই তদন্তের গতি বারবার বাঁধা প্রাপ্ত হচ্ছে এবং বিচার প্রক্রিয়া থমকে আছে ।
আর এই সময়েই শহরের অন্য একটি প্রান্তে আরেকটি আলো জ্বলল কিন্তু সেই আলোয় ছায়া ছিল নিজের নতুন ছবি ” Assi” বিশেষ প্রদর্শনের জন্য কলকাতায় এসেছিলেন অভিনেত্রী তাপসী পান্নু । তার ছবিটি শুধুমাত্র একটি গল্প নয় এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায় দর্শককে। আদালত কক্ষের ভেতরে চলা এক নিরলস লড়াই যেখানে অজানা যৌন নির্যাতনের ঘটনা আইনের ফাঁক ফোকর , পুলিশের দুর্নীতি আর সমাজের নীরবতা সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এই ছবি।
এই ছবির মর্ম আরো ভারী হয়ে ওঠে একটি পরিসংখ্যানে এই দেশে প্রতিদিন প্রায় ঘরে আশিটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে । অভিনেত্রী বলেন আমি কি শুধু একটি ঘটনা নিয়ে কথা বলব না বাকি ৮৯ টি ঘটনা নিয়ে বলবো যেগুলো একই দিনে ঘটে একটি ঘটনার জন্য সবাই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে বাকি ঘটনাগুলো নিয়ে কেন নীরবতা । আমার কাছে প্রতিটি ঘটনায় সমানভাবে বেদনাদায়ক আমি কোন নির্দিষ্ট রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাই না । আমি জানতে চাই কোথায় পাওয়া যাবে সত্যি কারের ন্যায়বিচার আমরা আমাদের এই ছবিতে সেটাই দেখাতে চেয়েছি। একটি রায় কি সত্যিই এই দেশে ধর্ষণ বন্ধ করে দিতে পারে ?
তাপসের কথাগুলো শুধু একজন অভিনেত্রীর বক্তব্য ছিল না দেশের অসংখ্য সাধারণ জনগণের কণ্ঠস্বরও ছিল বটে।

আরজি করের ক্ষত এখনো শুকায়নি কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি আদালতের নয়। প্রশ্ন আমাদের সমাজের। কবে দেশে বন্ধ হবে এই নির্মম কান্ড ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *