ম্যাক্রোঁ সফরে রাফালে চুক্তির ইঙ্গিত
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সস্ত্রীক তিন দিনের সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন। সোমবার গভীর রাতে তাঁর বিমান অবতরণ করে মুম্বই শহরে।বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত এবং মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস। কূটনৈতিক দিক থেকে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ ভারত-ফ্রান্স প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে এই সফরের ওপর।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গে ম্যাক্রোঁর বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই বৈঠকেই বহুদিন ধরে আলোচনায় থাকা প্রায় ৩ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকার রাফালে যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। চুক্তি অনুযায়ী ভারত ফ্রান্সের সংস্থা ডাসাল্ট এভিয়েশনের তৈরি মোট ১১৪টি রাফালে যুদ্ধবিমান কিনবে। এর মধ্যে ১৮টি বিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে আসবে, আর বাকি বিমান ধাপে ধাপে ভারতে তৈরি করা হবে। প্রথম দিকে এই বিমানগুলিতে প্রায় ৩০ শতাংশ দেশীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহার হবে, পরে তা বাড়িয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ করা হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রও শক্তিশালী হবে এবং দেশীয় শিল্পের কাজের সুযোগ বাড়বে।
এই সফরে শুধু প্রতিরক্ষা নয়, প্রযুক্তি সহযোগিতাও বড় বিষয় হয়ে উঠছে। বুধবার ম্যাক্রোঁ যাবেন নয়াদিল্লি-তে এবং সেখানে ইন্ডিয়া এআই ইম্প্যাক্ট সামিটে অংশ নেবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে ভারত-ফ্রান্স যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হবে। অর্থাৎ প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্প ও কৌশলগত সম্পর্ক সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা চলছে।
ভারতীয় বায়ুসেনার দিক থেকেও এই চুক্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এক দশক আগে বায়ুসেনা মোট ১২৬টি আধুনিক যুদ্ধবিমানের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু তখন মাত্র ৩৬টি রাফালে কেনা হয়। এদিকে পুরনো মিগ-২১ ও মিগ-২৩ যুদ্ধবিমান ধাপে ধাপে বাতিল হয়ে যাওয়ায় যুদ্ধবিমানের সংখ্যা কমে গেছে। শুধু বিদ্যমান রাফালে বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান এরোনটিক্স লিমিটেডের তৈরি তেজস মার্ক-১এ দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা কঠিন। তাই নতুন এই ১১৪টি যুদ্ধবিমান কেনা হলে ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি অনেকটাই বাড়বে বলে প্রতিরক্ষা মহলের ধারণা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ম্যাক্রোঁর এই সফর কেবল সৌজন্য সফর নয় এটি ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে। বিশেষ করে রাফালে চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও মজবুত হবে।
