হাসপাতালের শিশু বিভাগে মোবাইল বিস্ফোরণ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বীরভূম জেলার সিউড়ি সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগে মঙ্গলবার সকালে ঘটে গেল এক ভয়ংকর ঘটনা। কিন্তু অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায় বলেই সূত্রের খবর। হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ডে আচমকাই একটি মোবাইল ফোন বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়, যার জেরে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা ওয়ার্ড জুড়ে। সেই সময় ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল একাধিক শিশু, সঙ্গে ছিলেন তাঁদের মা ও অভিভাবকরা।
জানা গিয়েছে, একটি শিশু তাঁর মায়ের সঙ্গে ওই ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। শিশুটির মা নিজের মোবাইল ফোনটি চার্জে দিয়ে কিছুক্ষণ পর খুলে বালিশের পাশে রেখে দিয়েছিলেন। অভিযোগ, কোনও আগাম সতর্কতা ছাড়াই আচমকাই সেই মোবাইল ফোনটি বিকট শব্দ করে ফেটে যায়। সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল থেকে আগুন ও ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভিতর ধোঁয়ায় ভরে যায় পরিবেশ।
এই ঘটনার সময় ওয়ার্ডের ভিতরে শিশুদের ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছিল। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ ও ধোঁয়া দেখে আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন অভিভাবকরা। অনেকেই নিজের সন্তানকে কোলে নিয়ে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে শিশু ওয়ার্ডের প্রধান দরজা তখন বন্ধ থাকায় কিছু সময়ের জন্য কয়েকজন ভিতরেই আটকে পড়েন। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে কারণ ওই ওয়ার্ডে তখন অক্সিজেন সাপ্লাই চালু ছিল।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা ও কর্মীরা। তাঁরা ঝুঁকি নিয়েই আগুন ধরে থাকা মোবাইলটি কাপড়ের মধ্যে জড়িয়ে দ্রুত ওয়ার্ডের বাইরে নিয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিভে যায় এবং ধোঁয়াও কমতে শুরু করে। এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক মিনিটের জন্য গোটা ওয়ার্ডে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এক মহিলা জানান, এত কাছ থেকে আগুন আর ধোঁয়া দেখে তিনি ভয়ে কাঁপছিলেন। আরেকজন অভিভাবক বলেন, “যদি আগুন ছড়িয়ে পড়ত বা অক্সিজেন লাইনে কিছু হত, তাহলে বড় বিপদ হয়ে যেত।”
ভাগ্যক্রমে এই ঘটনায় কোনও শিশু, মা বা হাসপাতাল কর্মী আহত হননি। বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য শিশু বিভাগের পরিষেবা ব্যাহত হলেও পরে তা আবার স্বাভাবিকভাবে চালু হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুমান, মোবাইল ফোনের ব্যাটারির ত্রুটির কারণেই বিস্ফোরণ ঘটেছে। পাশাপাশি তাঁরা জানান, হাসপাতালের ওয়ার্ডে মোবাইল চার্জ দেওয়া বা অসাবধানভাবে ব্যবহার করা নিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য রোগী ও অভিভাবকদের আরও সচেতন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিল, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় মোবাইল ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে। অল্পের জন্য প্রাণহানির মতো বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও, মুহূর্তের অসতর্কতা যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সিউড়ি সদর হাসপাতালের এই ঘটনা।
