স্বামীর উপস্থিতিতেই প্রেমিককে বিয়ে, সাক্ষী গোটা গ্রাম
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ঠিক যেন সিনেমার পর্দার গল্প বাস্তবে নেমে এল। স্বামীর সামনেই প্রেমিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন এক গৃহবধূ। এই ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী থাকল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা থানার পাঁচথুপী পঞ্চায়েতের পুলিয়া কালিতলা এলাকা। অবাক করা বিষয় হল, এই বিয়েকে ঘিরে কোথাও কোনও অশান্তি হয়নি। বরং গ্রামবাসীরা হাসিমুখে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ছয় বছর আগে জজান এলাকার বাসিন্দা রাজেন বিত্তারের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সীমা মাঝির। বিয়ের পর তাঁদের সংসারে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়, যার বয়স বর্তমানে পাঁচ বছর। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি বাড়তে থাকে। পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। সংসারে শান্তি না থাকায় ধীরে ধীরে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে।
এই সময়েই সীমার জীবনে আসেন শ্রীকান্ত। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, তারপর ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্ক গোপনে না রেখে সামাজিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। সীমা এবং শ্রীকান্ত দু’জনেই চান নতুন করে জীবন শুরু করতে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই বিয়েতে কোনও বাধা দেননি সীমার স্বামী রাজেন। বরং বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি নিজেই এই সম্পর্ক মেনে নেন। বিয়ের আসরে রাজেন বলেন, “যে মানুষটা থাকতে চায় না, তাকে জোর করে ধরে রাখা যায় না। ওরা যেন নতুন জীবনে ভালো থাকে, এটাই চাই।”
পাঁচথুপী পঞ্চায়েতের সদস্য নান্টু ঘোষ জানান, রাজেন ও সীমার সংসারে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা চলছিল। সেই কারণেই সীমা নতুন করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। রাজেনও এতে আপত্তি তোলেননি।
এ বিষয়ে সীমা মাঝি বলেন, “আমার আগের সংসারে খুব অশান্তি ছিল। মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছিল। সেই পরিস্থিতিতে আর থাকা সম্ভব ছিল না। তাই নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার ছেলে আমার কাছেই থাকবে।”
নতুন স্বামী শ্রীকান্ত জানান, “গত কয়েক মাস ধরে আমাদের সম্পর্ক ছিল। সীমা আগের সংসারে সুখী ছিল না। আমিও আমার জীবনে সমস্যায় ছিলাম। তাই আমরা দু’জনে আলোচনা করেই একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিই।”
সীমার বাবা রতন মাঝি বলেন, “মেয়ের সংসারে সমস্যা ছিল। আমি বহুবার ওকে মানিয়ে নিতে বলেছিলাম। কিন্তু ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। এখন শুধু চাই, মেয়ে যেন শান্তিতে ও সুখে থাকে।”
এই ঘটনায় গ্রামজুড়ে নানা আলোচনা শুরু হলেও, বেশিরভাগ মানুষই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টিকে দেখছেন। তবে সম্পর্কের আইনি দিক এবং পাঁচ বছরের শিশুর ভবিষ্যৎ কী হবে—সেই প্রশ্ন এখনও থেকেই যাচ্ছে।
