আজকের দিনেতিলোত্তমা

গড়িয়াহাটে অটোতেই মিলল আগ্নেয়াস্ত্র

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা গড়িয়াহাটে পুলিশের একটি নিয়মিত তল্লাশি অভিযানে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। একেবারে সাধারণ একটি অটো রিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালাতেই পুলিশ উদ্ধার করল একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি। এই ঘটনায় শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যার দিকে ইএম বাইপাস থেকে গড়িয়াহাট অভিমুখে আসা একটি অটো রিকশা পুলিশের নজরে আসে। সন্দেহ হওয়ায় ওই অটোটি থামিয়ে তল্লাশি শুরু করেন গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা। শুরুতে বিষয়টি রুটিন তল্লাশির মতোই মনে হলেও, অটোর ভেতর লুকিয়ে রাখা জিনিসপত্র খতিয়ে দেখতেই পুলিশ কার্যত চমকে যায়।

তল্লাশির সময় অটোর ভিতর থেকে একে একে উদ্ধার হয় মোট ছ’টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১১ রাউন্ড কার্তুজ। অস্ত্রগুলি কী কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় অপরাধচক্র কাজ করছে কিনা এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।

এই ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম মহম্মদ ইস্তায়াক, তিনি বিহারের গয়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, এই অস্ত্রগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছে এবং কার নির্দেশে সেগুলি বহন করা হচ্ছিল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অস্ত্রগুলি সম্ভবত বাইরে থেকে বাস বা অন্য কোনও মাধ্যমে কলকাতায় এনে পরে অটোযোগে শহরের ভিতরে সরানো হচ্ছিল।
গড়িয়াহাট যেহেতু প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের এলাকা, সেখানে এইভাবে সাধারণ অটো রিকশার ভিতর অস্ত্র পাচারের চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, যদি এই অস্ত্রগুলি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যেত, তাহলে শহরের আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতির উপর তার ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারত।

এই ঘটনার পর থেকেই কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে। পুলিশ জানতে চাইছে এই অস্ত্রগুলি কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, নাশকতা না কি অন্য কোনও উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি ধৃতের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে, কোনও সংগঠিত চক্র কাজ করছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তরজা। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, বহিরাগত দুষ্কৃতীদের মাধ্যমে রাজ্যে অশান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে শাসকদলের বক্তব্য, পুলিশের সক্রিয়তা ও তৎপরতার কারণেই বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

সব মিলিয়ে, গড়িয়াহাটের মতো জনবহুল এলাকায় সাধারণ যানবাহনের ভিতর থেকে এই ধরনের বিপজ্জনক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা শহরের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট না হলেও, পুলিশ জানিয়েছে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শহরের নিরাপত্তায় কোনও রকম আপস করা হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *