আজকের দিনেবাংলার আয়না

তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- প্রতিবেশী এক তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের এক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হুগলির চণ্ডীতলা এলাকায়। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই পঞ্চায়েত সদস্যের পদ বাতিলের দাবিতে ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন শাসকদলেরই অন্য জনপ্রতিনিধিরা।

নির্যাতিতার দাদার অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে তাঁদের প্রতিবেশী ওই গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তাঁর বোনকে লাগাতার যৌন নির্যাতন করতেন। ভয়ে ও সামাজিক চাপে বিষয়টি এতদিন প্রকাশ্যে আনতে পারেননি তরুণী। এক সপ্তাহ আগে পুরো ঘটনা পরিবারের সামনে আসে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে গ্রামে উত্তেজনা ছড়ায়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল গ্রামে একটি সালিশিসভা বসে। সেই সভায় অভিযুক্ত তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য হাজির হলে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের একাংশ তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যায়।

এরপর চণ্ডীতলা থানায় নির্যাতিতার পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন নির্যাতিতার পরিবার ও আত্মীয়রা।

এদিকে ঘটনার পরেই শাসকদলের অন্দরেও অস্বস্তি প্রকাশ পায়। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭ জন সদস্য এবং তিন জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য একযোগে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের কাছে ডেপুটেশন দেন। অভিযুক্ত সদস্যের পঞ্চায়েত সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানানো হয় ওই চিঠিতে।

গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বলেন, “আমার পঞ্চায়েতের সদস্যরা একটি চিঠি দিয়েছেন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। আমি বিষয়টি অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই পালন করা হবে। কেউ ভুল করলে সেটা ভুলই। তার কোনও ক্ষমা নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের শিখিয়েছেন ভুলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরাও তাঁর দেখানো পথেই চলব।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। শাসকদলকে নিশানা করতে ছাড়েনি সিপিআইএম। বাম নেতা মনোজ চল বলেন,“গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যদের কাজ গ্রামের উন্নয়ন করা। সেখানে যদি একজন সদস্যের চরিত্র নিয়েই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তাঁরা কীভাবে মানুষের ভালো করবেন? এরা আবার মানুষের প্রতিনিধি হওয়ার দাবি করেন।”

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের কেউ হলেও আইন তার নিজের পথে চলবে। অন্যায় করলে দল কোনওভাবেই তাকে রক্ষা করবে না। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *