আজকের দিনেবাংলার আয়না

মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক, সতর্ক প্রশাসন

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা এলাকায় নতুন করে একটি ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের পরিকল্পনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই রাজ্যের বাইরে থেকেও কিছু সংগঠনের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

খবর অনুযায়ী, এই প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ ভেঙে দেওয়ার দাবিতে উত্তরপ্রদেশ থেকে একটি দল মুর্শিদাবাদে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করা এবং প্রয়োজনে আন্দোলনে নামা। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বাইরের লোক এসে পরিস্থিতি অশান্ত করতে পারে।

এই বিষয়ে একটি সংগঠন ‘বাবরি হটাও মঞ্চ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে বলে জানা যাচ্ছে। তাদের বক্তব্য, বাবরি নামের কোনও মসজিদ তাঁরা মানেন না এবং এই নির্মাণ বন্ধ হওয়া উচিত। এই দাবিকে সামনে রেখেই তারা বিভিন্ন জায়গায় প্রচার চালাচ্ছে।

এদিকে এই বিতর্কের মধ্যেই কলকাতা প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক বৈঠক ডাকার কথা জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। ওই বৈঠকে সংগঠনের নেতারা উপস্থিত থাকবেন এবং তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন বলে জানা গেছে। সংগঠনের বক্তব্য, ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয় এবং এই ধরনের নামকরণ বা নির্মাণ সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, এই মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ প্রথম সামনে আসে মুর্শিদাবাদের এক বিধায়কের বক্তব্যের পর। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, বেলডাঙা এলাকায় নতুন বাবরি মসজিদ তৈরি করা হবে এবং তার নকশাও প্রকাশ করেছিলেন। সেই সময় থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মসজিদ নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এবং বিদেশ থেকেও আর্থিক সাহায্য আসছে। প্রাথমিকভাবে কিছু কাজও শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই খবর আরও বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন সতর্ক হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও বহিরাগত যাতে এলাকায় এসে গোলমাল পাকাতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাকে ঘিরে আবারও মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য এখন একটাই যেন কোনওভাবেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *