মিলছে এক ফোনেই নিষিদ্ধ মাদক
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ফোন করলেই হাতে পৌঁছে যাচ্ছে নিষিদ্ধ মাদক তাও আবার সবার নজর এড়িয়ে। শিলিগুড়ি মহকুমা জুড়ে মাদকের এই ভয়ংকর ‘হোম ডেলিভারি’ ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র সামনে এল পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানে। শুক্রবার রাতে টোটোয় করে মাদক সরবরাহের সময় ১২ হাজার নেশার ট্যাবলেট-সহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা কার্যত পুলিশের শীর্ষ মহলেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে পুরনো এসজেডিএ দপ্তরের কাছে একটি ফাঁকা জায়গায় অভিযান চালানো হয়। সেখানেই একটি টোটো থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ নেশার ট্যাবলেট। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় সুদেশ রজক ও সুদীপ্ত পণ্ডিত নামে দুই যুবককে। তারা দু’জনেই শিলিগুড়ি শহরের প্রধাননগর এলাকার বাসিন্দা। উদ্ধার হওয়া ট্যাবলেটের বাজার মূল্য লক্ষাধিক টাকা বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, ফোনে খদ্দেরের অর্ডার পেলেই টোটোয় করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নেশার ট্যাবলেট পৌঁছে দেওয়া হতো। অর্থাৎ, মাদকের কারবার এখন আর গোপন ডেরায় সীমাবদ্ধ নয়—সরাসরি শহরের রাস্তায়, প্রকাশ্যেই চলছে ‘হোম ডেলিভারি’। এই তথ্য সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। শনিবার ধৃতদের শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়।
একই রাতে মাদকের বিরুদ্ধে আরও একটি বড় সাফল্য পায় পুলিশ। খড়িবাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয় ২০৩ গ্রাম ব্রাউন সুগার। পুলিশের অনুমান, নেপাল থেকে এই মাদক মেচি নদী সংলগ্ন এলাকা দিয়ে শিলিগুড়ি মহকুমায় ঢুকেছে। সীমান্ত লাগোয়া এলাকাকে ব্যবহার করেই পাচারকারীরা মাদকের রুট তৈরি করছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে কোচবিহার থেকে শিলিগুড়িতে পাচারের পথেও বড় সাফল্য পেয়েছে এসটিএফ। ফুলবাড়ির জটিয়াকালি এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি মালবাহী লরি থেকে প্রায় ২০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাবুল হুসেন, রাহুল ইসলাম ও সাদ্দাম হুসেন নামে তিনজনকে। তারা সকলেই কোচবিহার জেলার বাসিন্দা।
এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার থেকে গাঁজা বোঝাই লরিটি শিলিগুড়িতে আনার পরিকল্পনা ছিল। লরির ভেতর থেকে মোট ১৩ বস্তা গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। শনিবার ধৃতদের জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হয়েছে।
একাধিক ঘটনায় স্পষ্ট, শিলিগুড়ি মহকুমা জুড়ে মাদক কারবারীরা নতুন নতুন কৌশলে জাঁকিয়ে বসছে। ব্রাউন সুগার, গাঁজা, ট্যাবলেট সব ধরনের নিষিদ্ধ মাদকই সহজলভ্য হয়ে উঠছে। পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক সাফল্য মিললেও, ‘হোম ডেলিভারি’ ব্যবস্থার মতো ভয়ংকর বাস্তবতা নতুন করে চিন্তা বাড়াচ্ছে প্রশাসনের।
