বিএসএফের এক্তিয়ার ইস্যুতে কেন্দ্রকে আলটিমেটাম মমতার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিতে রাজ্য সরকার প্রস্তুত, তবে তার বিনিময়ে কেন্দ্র সরকারকে একটি শর্ত মানতেই হবে, বিএসএফের এক্তিয়ার বৃদ্ধির যে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা প্রত্যাহার করতে হবে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এই স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘বাংলা দখলের চেষ্টা’ এবং পেগাসাস বসিয়ে সাধারণ মানুষের উপর নজরদারি চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগও তুললেন তিনি।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অসহযোগিতার কারণেই সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ থমকে রয়েছে। এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সেই অভিযোগের কড়া জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্য কাকে জমি দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমরা কাকে জমি দিইনি? সবটাই দিয়ে দেব কেন্দ্র সরকারকে? তাহলে আপনারা কী করতে আছেন? বাংলাটাকে দখল করবেন?” তিনি জানান, কোল ইন্ডিয়া, সেল, এসএসবি, বিএসএফ, সিআরপিএফ-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজ্য ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ জমি দিয়েছে।
এরপরই বিএসএফের এক্তিয়ার বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে কেন্দ্রকে সরাসরি আলটিমেটাম দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে বিএসএফের কাজ করার নিয়ম ছিল। এখন সেই নিয়ম বদলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ঢুকে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, এই ধরনের অত্যাচার তিনি মেনে নেবেন না।
কেন্দ্রের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্য ইতিমধ্যেই যে জমি দিয়েছে, আগে সেখানে কাঁটাতারের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। কাজ শেষ হলে বাকি জমিও দেওয়া হবে। তবে তার আগে বিএসএফের নিয়ম বদলাতে হবে। ৫০ কিলোমিটার নয়, এক্তিয়ার ১৫ কিলোমিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে—এই শর্তে অনড় থাকেন মুখ্যমন্ত্রী।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি রাজ্য পুলিশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করত। এখন গত এক বছর ধরে সেই তথ্য দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বাইরে থেকে কেউ এলে কাস্টমস, এভিয়েশন বা রেল দপ্তর যে তথ্য দিত, তার ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশ ব্যবস্থা নিত। কিন্তু এখন কেন্দ্র সেই তথ্য দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একাধিক বৈঠকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনও কাজ হয়নি বলে জানান মমতা।
এদিনের বক্তৃতায় সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ছিল নজরদারি সংক্রান্ত। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি রাজ্যের জমি দখল করে সেখানে যন্ত্র বসিয়ে সাধারণ মানুষের উপর নজরদারি চালাচ্ছে। এমনকি মহাত্মা গান্ধির মূর্তির কাছেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ন্যাশনাল লাইব্রেরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় পেগাসাসের মতো নজরদারি যন্ত্র বসানো হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব করা যায় এবং কেউ কারও সঙ্গে স্বাধীনভাবে কথা বলতে না পারে।
এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ রাজ্যের বহু জমি দখল করে রেখেছে, কিন্তু তার কোনও হিসাব দেওয়া হয় না।
বিধানসভায় এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশ এবং রাজ্যের জনসংখ্যার চরিত্র বদল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার পাল্টা জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপি শুধু ‘অনুপ্রবেশ’ শব্দটাই বোঝে, কিন্তু সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা ভাবে না। তাঁর অভিযোগ, সীমান্তে অতিরিক্ত কড়াকড়ির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিজেপির এই রাজনীতিকে সংকীর্ণ বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
