টয় ট্রেনে ধোঁয়া, শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনে আতঙ্ক
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (ডিএইচআর) ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনে ধোঁয়া বেরোনোর ঘটনায় বুধবার সকালে শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। এনজেপি স্টেশন থেকে দার্জিলিংগামী টয় ট্রেনটি টাউন স্টেশনে ঢোকার মুখেই একটি কামরা থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। মুহূর্তের মধ্যেই যাত্রীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যান্য দিনের মতোই ওইদিন সকালে এনজেপি থেকে দার্জিলিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল টয় ট্রেনটি। যাত্রীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন পর্যটক। শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনে পৌঁছোনোর সময় আচমকাই একটি কামরা থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসতেই ট্রেনটি সঙ্গে সঙ্গে থামিয়ে দেওয়া হয়। আতঙ্কিত যাত্রীরা ট্রেনের ভিতরেই চিৎকার শুরু করেন।
এই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত রেলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তৎক্ষণাৎ ইঞ্জিন থেকে সংশ্লিষ্ট কামরাটি আলাদা করে দেওয়া হয়। ইঞ্জিনটিকে কিছুটা এগিয়ে নিয়ে গিয়ে থামিয়ে রাখা হয় এবং ওই কামরার সমস্ত যাত্রীকে দ্রুত নামিয়ে আনা হয়। পাশাপাশি বাড়তি সতর্কতা হিসেবে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, যে কামরা থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা গিয়েছিল, সেখানে চার জন যাত্রী ছিলেন। সকলেই দার্জিলিং যাচ্ছিলেন। যদিও কামরাটি খালি করার পরও ধোঁয়ার স্পষ্ট কোনও উৎস তখনও চিহ্নিত করা যায়নি। ফলে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, যান্ত্রিক সমস্যা নাকি অন্য কোনও কারণে এই ধোঁয়া তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যায়।
প্রাথমিক তদন্তে রেল কর্তৃপক্ষের অনুমান, ধূমপানের কারণে ‘ম্যান মেড’ ধোঁয়া তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে বৈদ্যুতিক বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত ত্রুটি থেকেও ধোঁয়া বেরোনোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার প্রায় দশ মিনিট পরে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলে টয় ট্রেনটি ফের দার্জিলিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়। কোনও যাত্রী আহত হননি এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
এ প্রসঙ্গে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, “একটি কামরায় ধোঁয়া দেখা গিয়েছিল। তবে আগুন লাগার কোনও ঘটনা ঘটেনি।” তাঁর সংযোজন, “প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে এটি ‘ম্যান মেড’ ধোঁয়া হতে পারে। তবুও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সমস্ত নিরাপত্তা বিধি মেনেই কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেনটি গন্তব্যের দিকে রওনা দেয়।”
এই ঘটনায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলেও, পর্যটন মরশুমে টয় ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে করছেন যাত্রীদের একাংশ।
