আজকের দিনেতিলোত্তমা

জিএসটি বাড়তেই সিগারেট-পানমশলার বাজার আগুন

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ফেব্রুয়ারি থেকে তামাকজাত পণ্যে বাড়তি জিএসটি লাগু হওয়ার ঘোষণার আগেই পুরো জানুয়ারি মাস জুড়ে অস্থিরতা চলেছে সিগারেট ও পানমশলার বাজারে। সেই অস্থিরতা এখনও কাটেনি। বাজেটে সিগারেটের ওপর কর বাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই, কোম্পানির নতুন দাম ঘোষণার আগেই খোলা বাজারে শুরু হয়ে যায় বাড়তি দামে বিক্রি। অভিযোগ উঠছে, অনেক দোকানদার ও পরিবেশক আগেভাগেই দাম বাড়িয়ে কালোবাজারি শুরু করেছেন।

এর মধ্যেই পাশের রাজ্য ওড়িশায় তামাকজাত পানমশলা ও সিগারেটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টোবাকো ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। তাদের দাবি, প্রিন্টেড এমআরপি-র চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি হচ্ছে এ নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে। শুধু ছোট দোকানদার নয়, বড় পরিবেশকরাও এই কালোবাজারিতে যুক্ত বলে অভিযোগ।

এই করবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও সমালোচনা জোরদার হয়েছে। টোব্যাকো বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিজেপি সাংসদ যশবন্তকুমার চিডিপথু সরাসরি কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অতিরিক্ত কর চাপালে দেশীয় সিগারেট ও তামাক শিল্প কালোবাজারির দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি নেপাল ও মায়ানমার থেকে বেআইনি সিগারেট ঢুকে ভারতীয় বাজারে বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

ইতিমধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নেপাল ও মায়ানমারের সিগারেটের দাপট দেখা যাচ্ছে। শিলিগুড়িতেও সহজেই মিলছে নেপালের সিগারেট। কড়া তামাকের কারণে অনেকেই এতে আসক্ত হচ্ছেন বলে দাবি।

১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে তামাকজাত পণ্যে জিএসটি হার হয়েছে ২৮ শতাংশ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কমপেনসেশন সেস ও কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক। বিপরীতে বিড়ির ওপর জিএসটি কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে এক প্যাকেট (১০টি) সিগারেট তৈরি করে বাজারে ছাড়তে কোম্পানিগুলির খরচ ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বাড়ছে। শিল্পমহলের দাবি, পাঁচ টাকার সিগারেটের দাম অন্তত ছ’টাকা হবে, আর দামি সিগারেট আরও বেশি দামে পৌঁছবে।

এই আশঙ্কাতেই বহু ক্রেতা আগেভাগে সিগারেট মজুত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। কারণ, অনেক দোকানদার ইতিমধ্যেই প্যাকেট পিছু পাঁচ থেকে দশ টাকা বেশি নিচ্ছেন। কলকাতার এক সিগারেট পরিবেশক সংস্থার কর্তা জানান, “কিছু জায়গায় কালোবাজারি হচ্ছে ঠিকই। তবে কর বাড়বে এই ভয়ে মানুষ বেশি করে সিগারেট কিনে রাখছেন, সেটাও বড় কারণ।”

কেন্দ্রের দাবি, তামাকজনিত রোগ বিশেষ করে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেই এই করবৃদ্ধি। কিন্তু এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারে। আইটিসি-সহ একাধিক তামাক সংস্থার শেয়ারে বড় ধস নেমেছে, যা এখনও পুরোপুরি সামলানো যায়নি।

অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত নতুন এমআরপি-ছাপা সিগারেট বা পানমশলার প্যাকেট বাজারে আসেনি। পুরনো স্টকই বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। অভিযোগ, কলকাতায় বহু ডিস্ট্রিবিউটর পুরনো দামে বিপুল পরিমাণ স্টক আটকে রেখে কালোবাজারি করছেন। বিড়ির জিএসটি কমলেও দাম কমার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত বাজারে নেই।

বাজেটের পরে জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক কার্যকর হলে ১০টি সিগারেটের প্যাকেটের দাম সর্বনিম্ন ২২ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। বড় সিগারেটের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি প্যাকেট পিছু প্রায় ৫৫ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, আগে ৯৫ টাকায় বিক্রি হওয়া উইলস নেভি কাট প্যাকেটের দাম হতে পারে প্রায় ১২০ টাকা। ১৭০ টাকার প্রিমিয়াম সিগারেটের প্যাকেট পৌঁছতে পারে ২২০–২২৫ টাকায়।

ডিস্ট্রিবিউটরদের আশা, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে নতুন এমআরপি-সহ প্যাকেট বাজারে আসবে। তবে অল ইন্ডিয়া কনজ়িউমার প্রোডাক্টস ডিস্ট্রিবিউটরস ফেডারেশন ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে নতুন কর কাঠামো কার্যকর হতেই সিগারেটের কালোবাজারি আরও বাড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *